রবার্ট ডুভাল
হলিউডের কিংবদন্তি অস্কারজয়ী অভিনেতা ও ‘দ্য গডফাদার’ তারকা রবার্ট ডুভাল মারা গেছেন। ৯৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানান স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজা। ভ্যারাইটি অবলম্বনে।
বিবৃতিতে তিনি লেখেন, “গতকাল আমরা বিদায় জানিয়েছি আমার প্রিয় স্বামী, প্রিয় বন্ধু এবং আমাদের সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতাকে। বব নিজের বাড়িতেই শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, ভালোবাসা আর আপনজনের সান্নিধ্যে। বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন একজন একাডেমি পুরস্কারজয়ী অভিনেতা, পরিচালক ও গল্পকার; আর আমার কাছে তিনি ছিলেন সবকিছু।”

তিনি আরও বলেন, ডুভালের কাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা, চরিত্রের প্রতি নিবেদন এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। প্রতিটি চরিত্রে তিনি মানবিক সত্যকে ফুটিয়ে তুলতে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতেন। তাঁর এই অবদান চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘস্থায়ী এক উত্তরাধিকার হয়ে থাকবে।
রবার্ট ডুভালের অর্জন
ডুভালের স্বাভাবিক, সংযত অথচ শক্তিশালী অভিনয়ভঙ্গি এক সময় পুরো একটি প্রজন্মের অভিনয়ের ধরনকে প্রভাবিত করে। তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন রবার্ট ডি নিরো, ডাস্টিন হফম্যান এবং জিন হ্যাকম্যান।
যদিও তিনি কখনো ডি নিরোর মতো বাণিজ্যিকভাবে বড় তারকা হয়ে ওঠেননি, তবু চরিত্রের গভীরে নীরবে প্রবেশ করার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সহকর্মী ও সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা একবার বলেছিলেন, একসময় এসে প্রধান নায়ক আর মহান চরিত্রাভিনেতার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডুভাল সাতবার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে টেলিভিশনেও তিনি সমান উজ্জ্বল ছিলেন, বিশেষ করে লোনসাম ডোভ ও ব্রোকেন ট্রেইল-এর মতো কাজের জন্য পাঁচবার এমি মনোনয়ন এবং দুবার পুরস্কার অর্জন করেন।
‘দ্য গডফাদার’ তারকা হয়ে উঠা
ডুভালের প্রথম বড় চলচ্চিত্র ছিল ১৯৬২ সালের ‘টু কিল এ মকিংবার্ড’, যেখানে তিনি বুউ র্যাডলি চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ার প্রকৃত গতি পায় ১৯৭০-এর দশকে।

১৯৭২ সালে ‘দ্য গডফাদার’-এ টম হেগেন চরিত্রে অভিনয় তাঁর জীবনের বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং প্রথম অস্কার মনোনয়ন এনে দেয়। পরে তিনি ‘দ্য গডফাদার পার্ট টু’-তেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৭৬ সালের নেটওয়ার্ক এবং ১৯৭৯ সালের ‘এপোকালিপ্স নাউ’-এ তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

অস্কারজয় ও পরবর্তী সাফল্য
১৯৮০ সালে ‘দ্য গ্রেট সান্টিনি’-তে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পান। এরপর ১৯৮৪ সালে ‘টেন্ডার মার্সিজ’-এ সংযত অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার অস্কার জেতেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি বহু চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘দ্য এপস্ট্যাল। এই ছবিটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেছিলেন এবং এর জন্যও অস্কার মনোনয়ন পান।
শেষ জীবন ও উত্তরাধিকার
২০০০-এর দশকেও ডুভাল সমান সক্রিয় ছিলেন। ২০১৪ সালের ‘দ্য জাজ’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি সপ্তম অস্কার মনোনয়ন লাভ করেন। তাঁর শেষদিকের পর্দা উপস্থিতির একটি ছিল ২০২২ সালের ‘দ্য পেল ব্লু আইজ’।
সান ডিয়েগোতে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র- তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন তাঁর চতুর্থ স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজাকে- যিনি তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত ছিলেন তাঁর সঙ্গী। ‘দ্য গডফাদার’ তারকা রবার্ট ডুভাল -এর এই বিদায়ে হলিউড শোকাহত।
৭ বার অস্কার মনোনয়ন
রবার্ট ডুভাল মোট ৭ বার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং ১ বার বিজয়ী হন।
রবার্ট ডুভাল যে চলচ্চিত্রগুলোর জন্য অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন –
- দ্য গডফাদার (১৯৭২): সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনীত।
- এপোকালিপ্স নাউ’ (১৯৭৯): সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনীত।
- দ্য গ্রেট স্যান্টিনি (১৯৭৯): সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনীত।
- টেন্ডার মার্সিস (১৯৮৩): সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার বিজয়ী।
- দ্য এপস্ট্যাল (১৯৯৭): সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনীত (এ ছবিটি তিনি লিখেছেন ও পরিচালনাও করেছেন)।
- এ সিভিল অ্যাকশন (১৯৯৮): সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনীত।
- দ্য জাজ (২০১৪): সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনীত।
১৯৮৩ সালের টেন্ডার মার্সিস ছবিতে ম্যাক স্লেজ নামে একজন ক্ষয়ে যাওয়া কান্ট্রি গায়ক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রবার্ট ডুভাল সেরা অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরষ্কার জিতেছিলেন।


