১০টি চলচ্চিত্র
হলিউড ও বিশ্বজুড়ে চলছে নতুন সিনেমার হিড়িক। আপনি সাধারণ সিনেমাদর্শক কিংবা সিনেমাপ্রেমী যেই হোন না কেন কোন চলচ্চিত্রগুলো বর্তমানে আলোচনায় আছে তা দেখে নিতেই পারেন। চলুন দেখে নেয়া যাক যে ১০টি চলচ্চিত্র সমালোচকদের আলোচনায় আছে এ সপ্তাহে। নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে।
১০.ওয়াদারিং হাইটস (‘Wuthering Heights’)

মার্গট রবি এবং জ্যাকব এলর্ডি অভিনয় করেছেন এই ট্র্যাজিক সিনেমায়। তারা অভিনয় করেছেন প্রেমিকযুগল ক্যাথরিন ও হিথক্লিফ চরিত্রে। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন এমেরাল্ড ফেনেল। সিনেমাটি প্রেম, প্রতিশোধ এবং ট্র্যাজিক আবেগের এক চরম বিন্যাস দেখায়। মার্গট রবি ও জ্যাকব এলর্ডির চমৎকার অভিনয়, সঙ্গে দর্শনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য, গল্পটিকে আরও গভীর ও মনমুগ্ধকর করে তোলে। একটি ক্লাসিক সাহিত্যকর্মকে আধুনিক সিনেমার ফ্রেমে অসাধারণভাবে রূপান্তরিত করা হয়েছে এতে।
৯. কোল্ড স্টোরেজ (‘Cold Storage’)

একটি স্টোরেজ স্থাপনায় কর্মরত দুই কর্মী-জো কিয়ারি ও জর্জিনা ক্যাম্পবেল-এক প্রাণঘাতী ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন, যেখানে তাদের সহায়তা করেন এক বায়োটেরর অপারেটিভ। জনি ক্যাম্পবেল সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন।
৮. গুড লাক, হ্যাভ ফান, ডোন্ট লাই (‘Good Luck, Have Fun, Don’t Die’)

এই বিজ্ঞানকল্প (সাই‑ফাই) গল্পটি শুরু হয় যখন এক ভবিষ্যৎ থেকে আগত মানুষ একটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইনারে এসে ঘোষণা করে যে তিনি আসলে পৃথিবীকে রক্ষা করতে এসেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ.আই) এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং তাকে থামানোর একমাত্র উপায় হলো কিছু সাধারণ মানুষের সহায়তা পাওয়া। তাই তিনি সম্পাদকীয়ভাবেই কিছু ডাইনার‑গ্রাহককে নিয়ে একটি অদ্ভুত দল গঠন করেন, যারা তাকে এই বিপর্যয় থামাতে সাহায্য করবে। শুরু হয় সময়‑ভ্রমণ, হাস্যকর পরিস্থিতি, ভিন্ন‑ধরনের চরিত্রের ব্যাখ্যা ও যুদ্ধ, এবং প্রযুক্তি‑আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক ভিন্নধর্মী অভিযান। চলার পথে দলকে সম্মুখীন হতে হয় বিপদ, আত্ম‑আবিষ্কার ও প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলোকে। শেষ পর্যন্ত তারা কতটা সফল হয় এবং পৃথিবীকে কি তারা বাঁচাতে পারে-সেটাই গল্পের মূল উত্তেজনা।
৭. মাই ফাদার’স শ্যাডো (‘My Father’s Shadow’)

একটি আবেগঘন ড্রামা চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেছেন নাইজেরিয়াজাত ব্রিটিশ পরিচালক আকিনোলা ডেভিস জুনিয়র। ছবির কাহিনি ১৯৯৩ সালের নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই, লাগোস শহরের পটভূমিতে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দু দুই ভাই-আকি ও রেমি-যারা একদিন হঠাৎ তাদের বহুদিন না দেখা বাবার সঙ্গে একটি দিন কাটাতে পারে। বাবা তাদের নিয়ে শহর ঘুরে, কাজের জায়গা ও জীবন সংগ্রামের নানা চেহারা দেখান, এবং সেই একদিনে তারা সম্পর্ক ও জীবনের গভীর অনুভূতি উপলব্ধি করতে শুরু করে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবার, স্মৃতি ও আবেগ-এগুলো মিলিয়ে সিনেমাটি একটি হৃদয়স্পর্শী এবং শিক্ষামূলক যাত্রায় পরিণত হয়।
৬. স্কারলেট (‘Scarlet’)

স্কারলেট হল একটি জাপানি অ্যানিমেটেড ফ্যান্টাসি–অ্যাকশন সিনেমা, যা পরিচালনা করেছেন মামোরু হোসোদা। গল্পের কেন্দ্রবিন্দু এক সাহসী রাজকন্যা স্কারলেট, যার পিতাকে হত্যার পর তার চাচা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে বের হয় সে, কিন্তু প্রথমে সে ব্যর্থ হয় ও “অন্যান্য জগৎ” বা পরলোকসদৃশ এক রহস্যময় স্থানে নিজেকে খুঁজে পায়। সেখানে সে একটি আধুনিক যুগের তরুণ হিজিরির সঙ্গে পরিচিত হয়, যে শুধু তার ক্ষত সারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না বরং তাকে শেখান কীভাবে ঘৃণা ছেড়ে ভবিষ্যতের দিকে এগোতে হয়। গল্প এগোতে থাকলে স্কারলেটের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দাঁড়ায় -সে কি শুধু প্রতিশোধের পথ বেছে নিবে, নাকি ঘৃণা ছেড়ে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজবে?
এই সিনেমা শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট-এর অনুপ্রেরণায় তৈরি একটি ভিন্নধর্মী সময়-ভ্রমণ এবং আত্ম-অন্বেষণের গল্প, যেখানে প্রচন্ড অ্যাকশন, দর্শনীয় কল্পকাহিনী ও আবেগের উপাদানগুলো মিলিয়ে একটি চিত্তাকর্ষক অভিজ্ঞতা গড়ে তোলা হয়েছে।
৫.’ক্রাইম ১০১’ (‘Crime 101’)

বার্ট লেটন পরিচালিত একটি স্টাইলিশ ক্রাইম‑থ্রিলার। গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ক্রিস হেমসওয়ার্থ যে কিনা একজন চতুর এবং পেশাদার রত্ন চোর। যিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ১০১ ফ্রিওয়ের ধারে রহস্যময় সব ডাকাতি চালিয়ে এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে চলেছেন। জীবনের সবচেয়ে বড় ডাকাতি করার পরিকল্পনায় তিনি জড়িয়ে পড়েন হ্যালি বেরি অভিনীত এক হতাশা যন্ত্রণা ভর্তি বীমা এজেন্টের সাথে, যিনি তার জীবনের জটিল ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে। একই সময় মার্ক রুফালো অভিনীত এক অনবরত অনুসন্ধানকারী পুলিশ বিষ্ণু মাইককে ধরার জন্য ছুটে যায়। গল্পের ক্রমবিকাশে “শিকার” ও “শিকারী”-এর সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সকলেই তাদের সিদ্ধান্তের মূল্য ও প্রত্যয়ের সামনে দাঁড়ায়- আর পেছনে ফিরে যাওয়ার পথ থাকে না। গল্পটি ক্লাসিক হাইজ্যাক থ্রিলারের মতো দেখতে হলেও চারিত্রিক আর্ক, মানসিক দ্বন্দ্ব, দৃশ্যায়ণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে এটি একটি টানটান, উচ্চ-মানের ক্রাইম সিনেমা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
৪. নির্ভানা দ্য ব্যান্ড দ্য শো দ্য মুভি (‘Nirvanna the Band the Show the Movie’)

একটি কানাডিয়ান টাইম‑ট্রাভেল কমেডি‑অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা, যা পরিচালনা করেছেন ম্যাট জনসন এবং লেখক‑অভিনয় করেছেন ম্যাট জনসন ও জে ম্যাকক্যারল নিজেরাই।
সিনেমার গল্প দুই আজীবন বন্ধু ম্যাট ও জে–এর উপর ভিত্তি করে, যারা টরন্টোর বিখ্যাত Rivoli ক্লাবে তাদের ব্যান্ডের জন্য একটি গিগ পেতে মরিয়া। কিন্তু তাদের বোকামি ভর্তি পরিকল্পনা এক বিপত্তিতে পরিণত হয় এবং ভুল করেই তারা ২০০৮ সালে সময়‑পিছনে চলে যায়। সময় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাদের সামনে আসে হাস্যকর পরিস্থিতি, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও মুক্ত‑মনস্ক মজার পরিস্থিতি, যখন তারা অতীত পরিবর্তন করার চেষ্টা করে এবং নিজেদের জীবনে বিপুল পরিবর্তন সৃষ্টি করে।
৩.টাইলার পেরি’জ জো’স কলেজ রোড ট্রিপ (‘Tyler Perry’s Joe’s College Road Trip’)

এই চলচ্চিত্রটি একটি পরিবার ও কমেডি‑ড্রামা, যা টাইলার পেরি অভিনীত জো চরিত্রের গল্প ঘিরে। জো তার বন্ধু বি.জে.-এর সঙ্গে একটি জাতীয় রোড ট্রিপে যায়, যেখানে তারা কলেজের জন্য একটি বিশেষ সফরে অংশ নিচ্ছে। যাত্রাটি তাদের জন্য কেবল একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণ নয়, বরং পরিবার, সম্পর্ক এবং নিজের জীবনের মূল উদ্দেশ্য বোঝার একটি যাত্রা হয়ে ওঠে।
যাত্রায় জো ও বি.জে. বিভিন্ন মজাদার এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে হাস্যরস, ছোট ছোট দ্বন্দ্ব এবং আবেগের মিশ্রণ ঘটছে। জো’র দাদু তার তত্ত্বাবধানে থেকে তাদের পথপ্রদর্শন করেন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেন।
২. বাই ডিজাইন (‘By Design’)

একটি অদ্ভুত, সুররিয়াল ও চিন্তাশীল কমেডি‑ড্রামা, যা পরিচালনা করেছেন আমান্ডা ক্রেমার। এতে জুলিয়েট লুইস অভিনয় করেছেন ক্যামিল চরিত্রে যিনি হাই‑এন্ড আসবাবপত্র দোকানে এক সুন্দর চেয়ার দেখে তাতে এত আকৃষ্ট হন যে একদিন তার “বসতে ইচ্ছুক হওয়া” এক চরম ইচ্ছায় পরিণত হয়। তার ইচ্ছা বাস্তবে পরিণত হলে তার আত্মা ওই চেয়ারে প্রবেশ করে, আর তার মানব দেহ নিস্ক্রিয় অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় তার প্রশংসা ও নানা অনুভূতি জন্মায়। ছবিটি একদিকে হাস্যকর ও সুররিয়াল কৌতুকে ভরা, অন্যদিকে এটি মানুষের আবেগ, আত্ম‑মূল্য, ও সমাজের সামনে মূল্যবান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তোলে। কখনও ব্যঙ্গাত্মক, কখনও দার্শনিকভাবে এটি দর্শককে চিন্তায় ফেলবে যে যখন মানুষ তাঁর নিজেকে বস্তু হিসেবে ভাবতে শুরু করে, তখন তার পরিচয় ও মূল্য কোথায় দাঁড়ায়।
১. গোট (‘Goat’)

টাইরি ডিলিহে পরিচালিত এই অ্যানিমেটেড স্পোর্টস কাহিনিতে দেখা যায়, কালেব ম্যাকলাফলিন অভিনীত এক বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছাগল তার বড় লিগে পৌঁছানোর স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করছে। সিনেমায় গল্পের মূল চরিত্র উইল হ্যারিস-একটি ছোট ছাগল-সাহসিক স্বপ্ন নিয়ে বড় লিগ‑ধরনের খেলা “রোরবল”‑এ খেলতে চায়। সেখানে দ্রুতগতির ও শক্তিশালী প্রাণীরা আধিপত্য বিস্তার করছে। পেশাদার টিমে সুযোগ পেলেও তার উচ্চতা ও দক্ষতার কারণে সাথীরা তাকে সহজে মেনে নিচ্ছে না। তবুও উইল মনোবল হারায় না এবং প্রমাণ করতে চায় যে “ছোটরাও খেলতে পারে”।
এই দশটি সিনেমা এখন বেশ আলোচনায়। এর মধ্যে ওয়াদারিং হাইটস নিয়ে আলোচনা বেশ তুঙ্গে। এছাড়া ক্রাইম ১০১ ও আছে অনেকের পছন্দের তালিকায়।


