আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা
ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা ৯০ বছর বয়সী তিব্বতী বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতলেন। প্রথমবারের মতো তিনি এই পুরস্কার জেতেন। তাঁর স্পোকেন-ওয়ার্ড অ্যালবাম ‘মেডিটেশনস: দ্য রিফ্লেকশন অব হিস হলিনেস অব দ্য দালাই লামা’র জন্য এ পুরস্কারে দেয়া হয় তাঁকে। আজ সোমবার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো অ্যারিনায় বসেছিল গ্র্যামির ৬৮তম আসর। সেখানেই দালাই লামার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

দালাই লামার এই অ্যালবামটি সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন ও স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। এই বিভাগে দালাই লামার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কেথি গারভার, ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক কেটাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন ও ফ্যাব মরভান।

দালাই লামার প্রকল্পটিতে সহযোগিতা করেছেন সারোদ বাদক আমজাদ আলী খান এবং তাঁর ছেলে আমান আলী ব্যাঙ্গাশ ও আয়ান আলী ব্যাঙ্গাশ। এই অ্যালবামের মধ্য দিয়ে দালাই লামা ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীত মিশিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা, দয়া, আশা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ফুটিয়ে তুলেছেন। যার কারণেই এটি হয়ে উঠেছে বেশ মাধুর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপুর্ণ।
গ্র্যামি নিয়ে দালাই লামা বলেছেন, তিনি এই সম্মান ‘কৃতজ্ঞতা ও বিনয়সহ’ গ্রহণ করছেন।
তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়,“এই স্বীকৃতি আমি কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি। আমি এটিকে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় হিসেবে দেখি না; বরং আমাদের সবার যৌথ ও সার্বজনীন দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখি।”

দালাই লামার অফিস জানিয়েছে, অ্যালবামটি তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতা থেকে নেওয়া শিক্ষা, যেখানে মানুষের কল্যাণ ও পৃথিবীর সুরক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। গ্লাসনোট রেকর্ডসের সহযোগিতায় এ অ্যালবামটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে।
ওই পোস্টে আরও বলা হয়, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে শান্তি, সহমর্মিতা, আমাদের পরিবেশের প্রতি যত্ন এবং মানবজাতির একত্বের উপলব্ধি—এই সবকিছুই বিশ্বের আটশ কোটি মানুষের সামষ্টিক কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।”
বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার জীবন
১৯৫৯ সালে চীনা সেনাবাহিনী তিব্বতে একটি বিদ্রোহ দমন করার পর প্রাণভয়ের আশঙ্কায় তিব্বতের রাজধানী লাসা ছাড়েন দালাই লামা। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৩ বছর। এরপর তিনি আর কখনও তিব্বতে ফিরে যাননি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নেতা জোর দিয়ে বলে আসছেন যে তাঁর এখনও বহু বছর বেঁচে থাকার আশা রয়েছে। তবে তিব্বতীরা ধীরে ধীরে এমন এক অনিবার্য ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, যেখানে তাঁকে ছাড়া পথ চলতে হবে।
তিব্বতি বৌদ্ধদের বিশ্বাস, বর্তমান দালাই লামা একজন মহান আধ্যাত্মিক নেতার চতুর্দশতম পুনর্জন্মের রূপ, যার প্রথম জন্ম হয়েছিল ১৩৯১ সালে।


