জেমস ক্যামেরন
হলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ও সৃজনশীল নির্মাতাদের একজন জেমস ক্যামেরন। কানাডিয়ান এই নির্মাতা সম্প্রতি আমেরিকা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে। এই খবরে বেশ অবাক হয়েছেন ক্যামেরন ভক্ত ও সিনেমাবোদ্ধারা। জেমস ক্যামেরন আমেরিকা ছেড়ে গেলেন কেন? সেই প্রশ্ন এখন সবার মনে।
সম্প্রতি ‘ইন ডেপথ উইথ গ্রাহাম বেসিঞ্জার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বরং কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই তাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য নয়, বরং আমি এখানে এসেছি মানসিক শান্তির জন্য।’

২০২০ সালে পরিবারসহ নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে চলে যান জেমস ক্যামেরন। তাঁর ভাষায়, কোভিড-১৯ মহামারি ছিল সেই টার্নিং পয়েন্ট, যা তাদেরকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। ক্যামেরনের মতে, মহামারির সময় নিউজিল্যান্ড যেভাবে বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত।
ক্যামেরন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড পুরোপুরি ভাইরাস নির্মূল করেছিল—একবার নয়, দুবার। তৃতীয়বার মিউটেশন হয়ে ভাইরাস ঢুকলেও তখন তাদের টিকাদানের হার ছিল ৯৮ শতাংশ।’
এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি তুলে ধরে ক্যামেরনের মন্তব্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তখন টিকাদানের হার ছিল ৬২ শতাংশ, আর সেটাও কমছিল—ভুল পথে যাচ্ছিল।’
জেমস ক্যামেরন আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার অন্যান্য কারণ
ক্যামেরন এই বিষয়টিকে শুধু স্বাস্থ্যসংকট নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্ন হিসেবেও দেখছেন। তার প্রশ্ন, ‘আপনি কোথায় থাকতে চাইবেন? এমন একটি জায়গায়, যেখানে মানুষ বিজ্ঞান বিশ্বাস করে, মানসিকভাবে স্থিতিশীল ও একটি অভিন্ন লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে পারে? নাকি এমন একটি দেশে, যেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে, চরমভাবে বিভক্ত, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করছে—আর আরেকটি মহামারি এলে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় পড়ে যাবে?’
এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মেরুকরণ, নৈরাজ্য ও বিজ্ঞানবিরোধী প্রবণতার দিক গুলো তুলে ধরেন তিনি।
তবে জেমস ক্যামেরনের নিউজিল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ নতুন নয়। ক্যামেরণ প্রথম দেশটিতে যান ১৯৯৪ সালে। তখনই দেশটির সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের সঙ্গে গভীর এক সংযোগ অনুভব করেন তিনি।
ক্যামেরন সেই স্মৃতিচারণায় বলেছেন, ‘সেই সময় নিজেকে বলেছিলাম—একদিন আমি এখানে থাকব।’

জানা গেছে, ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডে একটি খামার কেনেন তিনি। এরপর প্রায় এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে যাতায়াত করলেও পুরোপুরি বসবাসের সিদ্ধান্ত নেননি।
তবে শুরু থেকেই তার স্ত্রী সুজি অ্যামিস ক্যামেরন তাঁর নিউজিল্যান্ড ভক্তিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ‘আমরা যখন সম্পর্কের শুরুতে, তখনই সুজি বলেছিল—ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই,’ বলেন ক্যামেরন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পরিবারে সন্তান আসে, পরিবার বড় হতে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবু ও সান্তা বারবারায় গড়ে ওঠে তাঁর শিকড়। ফলে সিদ্ধান্ত নেয়াটা একটু কঠিন হয়ে উঠে। ক্যামেরনের ভাষ্যমতে, ‘তখন আমাদের বলতে হয়েছে ‘অ্যাভাটার’ শেষ হলে, পাড়ি দিতেই হবে।’
অবশেষে ২০২০ সালের আগস্টে কোভিড মহামারির মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও শান্তিময় পরিবেশ তাকে যেতে বাধ্য করে। ক্যামেরন পরিবারসহ নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার মতে, সিদ্ধান্তটি ছিলো সবচেয়ে যৌক্তিক ও নিরাপদ।
সম্প্রতি ক্যামেরনের অ্যাভাটার সিরিজের তৃতীয় কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি বেশ সমালোচনাসহ মাত্র ১৮ দিনেই এক বিলিয়ন ডলার আয়ের ঘর ছুঁয়েছে।


