ঐশ্বরিয়া রাইয়ের উপদেশ
দাম্পত্য জীবন মানেই সব সময় রোমান্টিক মুহূর্ত কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ সময় কাটবে এমনটা নাও হতে পারে। নানা চরাই উতরাই থাকে বিবাহিত জীবনে। এই নানারকম সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারা না পারার মধ্যেই সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। এবার সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কি করতে হবে তাই বলেছেন বলিউড দিবা ঐশ্বরিয়া রাই। বিবাহিত নারীদের জন্য ঐশ্বরিয়া রাইয়ের কি উপদেশ চলুন জানি।
দাম্পত্য জীবনে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত কিংবা কথার ওপর নির্ভর করে অনেক শান্তি ও কলহ। ঝগড়ার পর কে আগে কথা বলবে, কে নিজেকে সংযত রাখবে এবং কে সম্পর্কটিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেবে তাই হয়ে উঠে বড় প্রশ্ন। এই বাস্তবতার কথাই একসময় এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি তুলে ধরেছিলেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। তার মতে, একজন বিবাহিত নারীর জীবনে অনেক মূল্যবান ব্যাপার হল “নীরবতা”।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয় অভিষেক বচ্চনের একটি মন্তব্যে। জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ কারাণ’-এ উপস্থাপক কারাণ জোহরের সঙ্গের এক আলাপে অভিষেক তার দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঝগড়ার পর বেশির ভাগ সময় তিনিই আগে এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষায়, যেকোনো বিবাহিত পুরুষই জানেন, স্ত্রীরা সাধারণত আগে ‘সরি’ বলতে চান না।
অভিষেক আরও বলেন, প্রতিটি বিবাহেই একটি অঘোষিত নিয়ম কাজ করে, স্ত্রীই সব সময় ঠিক। আর সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে স্বামীর দায়িত্ব হয় নিজের অহংকার সরিয়ে রেখে সম্পর্ক রক্ষা করা। এই কথার সূত্র ধরেই ঐশ্বরিয়া তার মন্তব্য করেন যে, একজন বিবাহিত নারীর জীবনে নীরবতার গুরুত্ব অপরিসীম। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি জেদের নয়, বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এটি একটি সুন্দর মাধ্যম ও সচেতন কৌশল।

বিবাহিত নারীদের জন্য ঐশ্বরিয়া রাইয়ের উপদেশ
বিবাহিত নারীদেরকে ঐশ্বরিয়া রাই নীরবতা চর্চার কথা বলেছেন। ঐশ্বরিয়ার মতে, “বিবাহিত নারীর জীবনে নীরবতা খুবই হীরন্ময় ব্যাপার।”
দাম্পত্য জীবনে নীরবতা মানে দূরত্ব তৈরি করা নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার এক ধরনের বুদ্ধিমত্তা। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ইমোশনাল রেগুলেশন বলা হয়, যেখানে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, যাতে আবেগের বশে বলা কোনো কথা পরে অনুশোচনার কারণ না হয়।
এই নীরবতা অনেক সময় নারীদের জন্য শক্তির জায়গাও তৈরি করে। এখানে হার মানার প্রশ্ন নেই, বরং শান্তি ও সম্পর্কের স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকে। এমন নীরবতা অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গীকে নিজের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে এবং সম্পর্কের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
বলিউডের গ্ল্যামার, ব্যস্ততা ও নানামুখী আলোচনার মাঝেও ঐশ্বরিয়া ও অভিষেক বচ্চনের দাম্পত্য জীবনে এই দর্শনের প্রতিফলন দেখা হয়। তাদের সম্পর্ক প্রমাণ করে, দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা কেবল জৌলুসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না, বরং সহনশীলতা, সংযম ও পারস্পরিক সম্মানের ওপরই তার ভিত্তি গড়ে ওঠে।
আজ নানা গুঞ্জনের মধ্যেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় এই দৃষ্টিভঙ্গিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। দাম্পত্য জীবনে ছোট সিদ্ধান্ত ও নীরব সংযমই যে বড় স্থায়িত্ব তৈরি করতে পারে, বচ্চন দম্পতির অভিজ্ঞতা সেটাই তুলে ধরে।
