রমা দাশগুপ্ত থেকে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়িকা ও পাবনার কন্যা সুচিত্রা সেন। অসাধারণ অভিনয়ে আজও দর্শকদের হৃদয়ে আছেন। কালজয়ী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতি বাঙালি নারীত্ববোধ ও লাবণ্য ফুটিয়ে তুলে নিজেকে নিয়ে যান এক অন্য উচ্চতায়। ১৭ জানুয়ারি, নানা কর্মসূচিতে পালন হয়েছে মহানায়িকা সূচিতা সেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনা তাঁর পৈতৃক বাড়িতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।
সুচিত্রা সেনের প্রথম ছবি মুক্তি পায়নি
সুচিত্রা সেন ১৯৫২ সালে চলচ্চিত্র জগতে প্রথম পা রাখেন। তার প্রথম সিনেমা ‘শেষ কোথায়’ মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৫৩ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে সাড়ে চুয়াত্তর ছবি করে সাড়া ফেলে দেন চলচ্চিত্র অঙ্গনে। সুচিত্রা সেন বাংলা ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি দেবদাস (১৯৫৫)।

১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মশ্রী পান
তবে ক্যারিয়ারে একসময় পর্দা কাঁপানো এই নায়িকা পর্দার আড়ালে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭৮ সালে তার ছবি ‘প্রণয় পাশা’র আশানুরুপ সাফল্য না পাওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন সুচিত্রা। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মশ্রী পান। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলাবিভূষণ সম্মাননা দেয়া হয় তাকে। ২০০৫ সালে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কারের প্রস্তাব দেওয়ায় সুচিত্রা সেন দিল্লীতে গিয়ে গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সাত পাকে বাঁধা ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার আসল নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই অভিনেত্রী।