জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ এর মূল গল্প শেষ হলেও এর রহস্যময় জগতের গল্প এখনো বাকি। এবার সেই জগতের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে আসছে নেটফ্লিক্স। ২০২৮ সালে মুক্তি পাবে সিরিজটির নতুন প্রিক্যুয়েল ‘আদার ওয়ার্ল্ডস: আ স্ট্রেঞ্জার থিংস অ্যাডভেঞ্চার’। মূল সিরিজের পরিচিত গল্পের বাইরে গিয়ে এবার দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হবে ১৯৫০ এর দশকের যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে থাকবে নতুন চরিত্র, অজানা রহস্য এবং অতিপ্রাকৃত ঘটনার এক ভিন্ন গল্প।
৬ নভেম্বর ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস ডে’ উপলক্ষে সিরিজটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে নেটফ্লিক্স। মূল সিরিজের গল্প অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ৬ নভেম্বর উইল বায়ার্স নিখোঁজ হয়েছিল। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতিবছর দিনটি ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস ডে’ হিসেবে উদ্যাপন করা হয়। এবারের এই বিশেষ দিনেই নতুন প্রিক্যুয়েলের খবর সামনে আনল নেটফ্লিক্স।
গল্পের পটভূমি ১৯৫৫ সালের নেভাডা
‘আদার ওয়ার্ল্ডস’ এর গল্পের পটভূমি ১৯৫৫ সালের ১৯ এপ্রিল। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন নামের একটি এলাকায় ঘটবে গল্পের ঘটনা। এটি মূল সিরিজের হকিন্স শহরের ঘটনাগুলোর অনেক আগের সময়।
প্রকাশিত টিজারে দেখা গেছে, নেভাডার আকাশে রহস্যময় এক ঘটনার ইঙ্গিত। সেখানে দেখা যায় অস্বাভাবিক এক আলোর উপস্থিতি এবং অন্য কোনো জগতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে এমন এক রহস্যময় পরিস্থিতি। তবে গল্পের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি নেটফ্লিক্স।
১৯৫০ এর দশকের প্রেক্ষাপট হওয়ায় সিরিজটিতে সে সময়ের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সরকারি গোপন কর্মকাণ্ড এবং অজানা ঘটনা নিয়ে মানুষের ভয় ও কৌতূহল উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে শীতল যুদ্ধের সময়কার পরিবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক গবেষণার আবহ গল্পটিকে আরও রহস্যময় করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন চরিত্র, নতুন রহস্য
নতুন সিরিজটির অন্যতম বিশেষ দিক হলো, এতে শুধু পুরোনো চরিত্রদের গল্পের পুনরাবৃত্তি করা হবে না। বরং নতুন নায়ক, খলনায়ক এবং নতুন গল্প নিয়ে তৈরি হবে এটি। ডাফার ব্রাদার্স জানিয়েছেন, ‘আদার ওয়ার্ল্ডস’ মূল সিরিজের পরিচিত আবহ ধরে রাখলেও গল্প, চরিত্র ও পরিবেশের দিক থেকে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
তাঁদের ভাষায়, বহু বছর ধরেই তাঁরা এই সিরিজটি নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। নতুন রহস্যের পাশাপাশি মূল সিরিজের ভয়, বিস্ময় ও আবেগের অনুভূতিও ধরে রাখতে চান তাঁরা।
নির্মাণে থাকছেন কারা?
সিরিজটি যৌথভাবে তৈরি করছেন ডাফার ব্রাদার্স; ম্যাট ডাফার ও রস ডাফার। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন কেট ট্রেফ্রি। তিনি ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ এর লেখক দলের সদস্য এবং মঞ্চনাটক ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য ফার্স্ট শ্যাডো’ এর লেখক। নতুন সিরিজটির শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
প্রথম তিনটি পর্ব পরিচালনা করবেন ব্রিটিশ নির্মাতা জো রাইট। ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘আটোনমেন্ট’ ও ‘ডার্কেস্ট আওয়ার’ এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত তিনি। সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও থাকছেন জো রাইট।
এ ছাড়া নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন শন লেভি। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ২১ ল্যাপসের পাশাপাশি পল ডিখটার, শেলি মিলস, আন্দ্রেয়া স্পার্লিং এবং পাভলিনা হাতুপিসও এই প্রকল্পে কাজ করছেন। সিরিজটির শুটিং হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে।
ভেকনার অতীতের সঙ্গে কি যোগসূত্র থাকবে?
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ এর দর্শকদের কাছে হেনরি ক্রিল, অর্থাৎ ভেকনা, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। নতুন প্রিক্যুয়েল নিয়ে আগ্রহের বড় কারণ হলো তার অতীতের সঙ্গে গল্পটির সম্ভাব্য যোগসূত্র।
মূল সিরিজের নির্মাতারা এর আগে জানিয়েছিলেন, নতুন গল্পে হেনরি ক্রিলের জীবনের এমন একটি সময় উঠে আসতে পারে, যখন সে অন্য জগতের রহস্যময় শক্তির সংস্পর্শে আসেনি। তবে ‘আদার ওয়ার্ল্ডস’ এ হেনরির সরাসরি উপস্থিতি থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ প্রসঙ্গে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য ফার্স্ট শ্যাডো’ মঞ্চনাটকের কথাও আসে। কেট ট্রেফ্রির লেখা এই নাটকে হেনরি ক্রিলের অতীত, তার পরিবর্তন এবং ডক্টর ব্রেনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে নাটকটির মঞ্চায়ন শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালে এটি ব্রডওয়েতেও প্রদর্শিত হয়।

আরও বিস্তৃত হচ্ছে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ জগৎ
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ অল্প সময়েই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। হকিন্স শহরের শিশু-কিশোরদের ঘিরে রহস্যময় নিখোঁজ হওয়া, গোপন গবেষণাগার, ভয়ংকর প্রাণী এবং আপসাইড ডাউনের গল্প দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
মূল সিরিজটির সম্প্রচার ২০২৫ সালের শেষ দিকে শেষ হয়েছে। তবে এর গল্পের জগৎ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এর আগে ঘোষণা করা হয়েছে অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস: টেলস ফ্রম ’৮৫’। পাশাপাশি রয়েছে ‘দ্য ফার্স্ট শ্যাডো’ মঞ্চনাটক। ‘আদার ওয়ার্ল্ডস’ হতে যাচ্ছে এই জগতের আরেকটি নতুন টেলিভিশন প্রকল্প।
সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘আদার ওয়ার্ল্ডস’ পুরোনো ভক্তদের জন্য নতুন রহস্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে। হকিন্সের পরিচিত গল্পের বাইরে ১৯৫০ এর দশকের নেভাডায় কী ঘটেছিল, সেই উত্তর জানার অপেক্ষায় থাকতে হবে দর্শকদের।









