গত জুলাই আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ শিরোনামে ছাত্র-জনতার পক্ষে গান বাঁধেন পারশা মাহজাবীন। মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে গানটি। আলোচনায় চলে আসেন পারশা। এরপর প্যারিসের ইউনেসকো সদর দপ্তরে এ বছর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন ও গাইলেন।
ইউনেসকো সদর দপ্তরে পারফর্মের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পারশা বলেন, ‘দারুণ এক অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে আমার জীবনে। এত বড় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য গর্বের। একেবারে শেষ মুহূর্তে জানতে পারি, আমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। সেখানে আমি গেয়েছি টুনটুন বাউলের সঙ্গে। তার সঙ্গে গাইতে পারা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
গত বছর প্রবীর রায় চৌধুরীর নাটক ‘লাভ লাইন’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক পারশার। ফেব্রুয়ারিতে চরকিতে মুক্তি পেয়েছে পারশার প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘ঘুমপরী’। এতে ঊষা চরিত্রে প্রশংসিত হচ্ছে তার অভিনয়।
ঊষা চরিত্রটি নিয়ে পারশা বলেন, ‘ঊষা চরিত্রটি একেবারে আমার বিপরীত। তার ড্রেসআপ, চোখে কাজল দেওয়া, বেণি করে থাকা—সবই আলাদা। প্রথমদিকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তবে একসময় নিজেকে ঊষাই মনে হচ্ছিল। এমনকি সেটেও আমাকে এ নামে ডাকা হতো। যেহেতু আমি অভিনয়ে নতুন, টেকনিক্যাল অনেক কিছু শুটিং সেটে গিয়ে শিখেছি। প্রত্যাশা কম রেখেছিলাম। ভেবে রেখেছিলাম, নিজের সেরাটা দেব, কিন্তু বেশি প্রত্যাশা রাখা যাবে না। যদি ভালো হয়, তাহলে মানুষ সেটা বলবে। এখন সেটাই হচ্ছে।’
গান বেশি ভালো লাগার হলেও অভিনয়টা মনোযোগ দিয়ে করতে চান পারশা। তিনি বলেন, ‘৩ বছর বয়স থেকে গান শিখি ও করি। আর অভিনয়ে একদম নতুন। তাই গানের প্রতি ভালোবাসাটা বেশি। অভিনয়ের প্রতিও ভালোবাসা জন্মাচ্ছে। সামনে হয়তো আরও জন্মাবে। তবে গান হোক কিংবা অভিনয়—একটু বুঝেশুনে এগোতে চাই। নতুন হলেও আমাকে নিয়ে মানুষের একধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেটা ধরে রাখতে চাই।’
পারশা এখন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের ওপর বিবিএ করছেন। পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার—দুটো একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবু অল্প অল্প করে এগিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।