সংগীতের জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন থমাস ফার্নন। বিবিসি-নেটফ্লিক্সের বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রে তাঁর সুরের ব্যবহার হয়েছে। এবার সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন এই সুরকার। ব্রিটিশ সংগীতজগতের মর্যাদাপূর্ণ ‘আইভরস কম্পোজার অ্যাওয়ার্ড’ এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এই অর্জনে আনন্দিত ফার্নন জানিয়েছেন, এমন স্বীকৃতি তাঁর কাছে অনেক বড় পাওয়া।
গার্নসি দ্বীপের বাসিন্দা থমাস ফার্ননের কাজের তালিকায় রয়েছে বিবিসির ‘ম্যামালস’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘আওয়ার প্ল্যানেট টু’ এর মতো প্রামাণ্যচিত্র। ‘ম্যামালস’ বর্ণনা করেছেন বিখ্যাত প্রকৃতিবিদ স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী নিয়ে নির্মিত এসব কাজের সংগীত দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর করে তোলে। এবার ডেভিড ফ্রস্টকে নিয়ে নির্মিত ‘ডেভিড ফ্রস্ট ভার্সেস’এর সংগীত তাঁকে এনে দিয়েছে নতুন স্বীকৃতির সুযোগ।

এই কাজের জন্য ‘বেস্ট অরিজিনাল ডকুমেন্টারি স্কোর’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন ফার্নন। প্রামাণ্যচিত্রের জন্য তৈরি মৌলিক সংগীতকে স্বীকৃতি দেয় এই বিভাগ। সমসাময়িক সংস্কৃতিতে সুরকারদের অবদান তুলে ধরাই আইভরস কম্পোজার অ্যাওয়ার্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ফার্ননের কাছে এই পুরস্কারের গুরুত্ব অবশ্য আরও ব্যক্তিগত। ছোটবেলা থেকেই আইভরস পুরস্কারের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক একটি স্মৃতি। তাঁর দাদা রবার্ট ফার্ননের সংগ্রহে একটি আইভরস পুরস্কার দেখেছিলেন তিনি। তখন নিজের হাতে এমন একটি পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্নকে অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হতো। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নই এখন বাস্তবের কাছাকাছি এসেছে।
সংগীতের সঙ্গে ফার্ননের সম্পর্ক পারিবারিকভাবেই গড়ে উঠেছে। তাঁর বাবা ডেভিড ফার্নন একজন সুরকার। দাদা রবার্ট ফার্ননও চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের সংগীত রচনার জন্য পরিচিত ছিলেন। দুই প্রজন্মের এই সংগীতচর্চার ধারাবাহিকতায় থমাসও নিজের পথ তৈরি করেছেন।

গার্নসিতে জন্ম নেওয়া ফার্নন দ্বীপটিতেই স্কুলজীবন শুরু করেন। ১২ বছর বয়সে সংগীতের পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডের সমারসেটে চলে যান। সেখানে ওয়েলস ক্যাথেড্রাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে লন্ডনে সংগীত নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন এবং প্রায় ১৫ বছর ব্রিটিশ রাজধানীতে বসবাস করেন।
দুই বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে আবার গার্নসিতে ফিরে যান তিনি। একসময় দ্বীপে বসবাস করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুরকার হিসেবে কাজ করাকে বেশ কঠিন মনে হতো তাঁর কাছে। তবে প্রযুক্তি ও কাজের ধরনে পরিবর্তনের কারণে এখন বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে সংগীতের কাজ করা অনেক সহজ হয়েছে বলে মনে করেন ফার্নন। তাঁর ভাষায়, গার্নসিতে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি দারুণভাবে কাজে এসেছে। এমনকি সংগীতশিল্পীদের সেখানে নিয়ে এসে একসঙ্গে কাজ করাও এখন খুব কঠিন নয়।
প্রামাণ্যচিত্রের সংগীতকে আলাদা বিভাগে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই সুরকার। তাঁর মতে, প্রামাণ্যচিত্রের সংগীত অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। তাই এই বিভাগ চালু হওয়ায় শিল্পের এমন একটি দিক সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফার্নন বলেন, এত গুণী সুরকারের সঙ্গে একই তালিকায় থাকতে পেরে তিনি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছেন।
আগামী ১৭ নভেম্বর লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে আইভরস কম্পোজার অ্যাওয়ার্ডের বিজয়ীদের নাম। সেদিনই জানা যাবে, শৈশব থেকে দেখে আসা সেই পুরস্কার এবার নিজের ঝুলিতে তুলতে পারেন কি না থমাস ফার্নন। তবে মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হলো।






