২০১৯ সালে থেমে যাওয়া স্বপ্নের সিনেমা আবারও আলোচনায়। সঞ্জয় লীলা বানসালি ও আলিয়া ভাট ‘ইনশাল্লাহ’ নতুন ভাবে শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে এবার সালমান খান থাকছেন কি না, নাকি আসছে নতুন কোনো মুখ? সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। সঞ্জয় লীলা বানসালির সিনেমা মানেই বড় পর্দায় আলাদা এক জগৎ। বিশাল সেট, চোখ ধাঁধানো দৃশ্য, আবেগ নির্ভর গল্প আর চরিত্রের গভীরতা এসব মিলিয়ে তার ছবির নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। সেই বানসালির বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ইনশাল্লাহ’ এবার নতুন করে আলোচনায়।
২০১৯ সালে ঘোষণার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কারণ এতে প্রথম বারের মতো বানসালির সঙ্গে জুটি বাঁধার কথা ছিল সালমান খান ও আলিয়া ভাটের। কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই থেমে যায় পুরো প্রকল্প। সাত বছর পর সেই থেমে যাওয়া গল্প আবারও সামনে এসেছে।
২০১৯ সালে ‘ইনশাল্লাহ’র ঘোষণা আসে বড় আয়োজনেই। বানসালির পরিচালনায় সালমান ও আলিয়ার জুটি ছিল সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু শুটিং শুরুর কয়েক দিন আগে সালমান ও বানসালির মধ্যে সৃজনশীল মতপার্থক্য তৈরি হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর সালমান সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ান এবং শেষ পর্যন্ত ‘ইনশাল্লাহ’র কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সিনেমাটি আর শুরু না হলেও এই জুটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সেখানেই তৈরি হয়। কারণ ‘ইনশাল্লাহ’ বন্ধ হওয়ার পর বানসালি ও আলিয়া একসঙ্গে কাজ করেন আরেক হিট সিনেমায়।
‘ইনশাল্লাহ’ আটকে যাওয়ার পর বানসালি আলিয়াকে নিয়ে তৈরি করেন ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি আলিয়ার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। গাঙ্গুবাই চরিত্রে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতিও পান। অর্থাৎ, যে সিনেমাটি হয়নি, সেটিই শেষ পর্যন্ত বানসালি-আলিয়া জুটিকে অন্য একটি বড় সিনেমার দিকে নিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বানসালি ও আলিয়া ‘ইনশাল্লাহ’ আবার শুরু করার কথা ভাবছেন। তবে এটি ২০১৯ সালের সিনেমার সরাসরি পুনরায় শুটিং হবে না। মূল গল্পের ভাবনা ধরে রেখে চিত্রনাট্য নতুন করে সাজানো হচ্ছে। অর্থাৎ পুরোনো ‘ইনশাল্লাহ’কে শুধু ফিরিয়ে আনা নয়, বরং বর্তমান সময়ের জন্য গল্পটিকে নতুন ভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন বানসালি। চিত্রনাট্য চূড়ান্ত হওয়ার পরই সিনেমাটির কাস্টিং নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলিয়ার নায়ক কে?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই। ২০১৯ সালের সংস্করণে আলিয়ার বিপরীতে ছিলেন সালমান খান। কিন্তু নতুন সংস্করণে সালমান থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এরই মধ্যে শাহরুখ খানের নামও সম্ভাব্য নায়ক হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে শাহরুখকেও এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে একটি সূত্রের দাবি, বানসালি চিত্রনাট্য চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিনেতার নাম নিশ্চিত করবেন না। গল্পের প্রয়োজন হলে এবার তরুণ কোনো অভিনেতাকেও নায়ক হিসেবে নেওয়া হতে পারে। তাই আপাতত ‘ইনশাল্লাহ’র নায়ক নিয়ে তিনটি সম্ভাবনাই আলোচনায়; সালমান, শাহরুখ কিংবা একেবারে নতুন কোনো তরুণ মুখ।
‘ইনশাল্লাহ’র আগে বানসালির ব্যস্ততা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ নিয়ে। সিনেমাটিতে আলিয়া, রণবীর ও ভিকি কৌশলকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে। এটি বানসালির আরেকটি বড় বাজেটের প্রজেক্ট এরপরই ‘ইনশাল্লাহ’ নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, এখনই শুটিং শুরু হচ্ছে না। আগে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ শেষ করে বানসালি নতুন করে ‘ইনশাল্লাহ’র চিত্রনাট্য ও কাস্টিং চূড়ান্ত করতে পারেন।
বানসালির সঙ্গে আলিয়ার সম্পর্ক
‘ইনশাল্লাহ’ দিয়েই বানসালি-আলিয়ার প্রথম কাজ হওয়ার কথা ছিল। সিনেমাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সেই সম্পর্ক থেমে থাকেনি। বরং ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ তাদের জুটিকে আরও শক্তিশালী করে। এরপর আবারও দুজন একসঙ্গে কাজ করছেন ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায়।
সঞ্জয় লীলা বানসালি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত নির্মাতা। ‘দেবদাস’, ‘সাওয়ারিয়া’, ‘গুজারিশ’, ‘গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবত’ ও ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র মতো সিনেমা দিয়ে তিনি নিজের আলাদা নির্মাণশৈলী তৈরি করেছেন।

অন্যদিকে আলিয়া ভাট গত এক দশকে বলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘হাইওয়ে’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘রাজি’, ‘গলি বয়’, ‘ডার্লিংস’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ ও ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র মতো সিনেমায় ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাই ‘ইনশাল্লাহ’ ফিরলে বানসালির নির্মাণশৈলী ও আলিয়ার অভিনয় এই জুটির ওপর দর্শকের প্রত্যাশাও থাকবে অনেক বেশি। ফলে ‘ইনশাল্লাহ’ নতুন করে শুরু হলে এটি হবে বানসালি-আলিয়ার তৃতীয় বড় কাজ।
২০১৯ সালের ঘোষণা থেকে ২০২৬ সালের নতুন আলোচনার দীর্ঘ এই সময়ে ‘ইনশাল্লাহ’ অনেকবারই খবরের শিরোনামে এসেছে। কিন্তু এবার পার্থক্য হলো, বানসালি ও আলিয়া আবারও সিনেমাটিকে নতুনভাবে ভাবছেন বলে খবর এসেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুটিং শুরুর ঘোষণা হয়নি। চিত্রনাট্য, নায়ক এবং শুটিংয়ের সময়সূচি সবই চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায়।
তাই আপাতত সবচেয়ে বড় খবর হলো, ‘ইনশাল্লাহ’ হয়তো শেষ হয়ে যায়নি। সাত বছর পর সিনেমাটি নতুন গল্পের ভাষা ও নতুন নায়ক নিয়ে আবারও বড় পর্দার পথে ফিরতে পারে। আর সেই ফেরার কেন্দ্রে থাকছেন সেই আলিয়া ভাট যার সঙ্গে বানসালির প্রথম থেমে যাওয়া স্বপ্নের সিনেমা, আর সেই থেমে যাওয়া থেকেই জন্ম নিবে এই জুটির সম্ভাব্য তৃতীয় সফল অধ্যায়।









