Monday, October 5, 2026

চলে গেলেন কিংবদন্তি নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

কেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন আমির খান?

September 26, 2026

সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোর অবিশ্বাস্য গল্প 

September 17, 2026

শত শত কোটি বাজেট, তবুও ভয়াবহ ফ্লপ!

September 10, 2026

শাকিব খানের উত্থানের গল্প

September 6, 2026

পুষ্পক বিমানম’ নির্মাতার প্রয়াণ

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও। বয়সজনিত নানা জটিলতায় কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই বর্ষীয়ান নির্মাতা। ছয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সৃষ্টিশীল ও পরীক্ষাধর্মী নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও আর নেই। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে চেন্নাইয়ের একটি দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষায় সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি। ‘পুষ্পক বিমানম’, ‘আদিত্য ৩৬৯’, ‘ময়ূরী’ ও ‘ভৈরব দ্বীপম’-এর মতো সিনেমা তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যতিক্রমী নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কে ভি রেড্ডির সহকারী থেকে নির্মাতা

১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুদুরে জন্ম সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাওয়ের। চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় কিংবদন্তি পরিচালক কে ভি রেড্ডির সহকারী হিসেবে। ‘মায়াবাজার’ (১৯৫৭) ও ‘জগদেকা বীরুনী কথা’ (১৯৬১)-এর মতো উল্লেখ যোগ্য সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৭২ সালে ‘নীতি নিজায়িতি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সিঙ্গীতম। এরপর সামাজিক গল্প, কমেডি, ফ্যান্টাসি, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ও জীবনী ভিত্তিক গল্প বিভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে থাকেন।

শুরুতেই জাতীয় স্বীকৃতি

১৯৭৪ সালে সিঙ্গীতম নির্মাণ করেন ‘দিক্কাত্র পার্বতী’। ছবিটি তামিল ভাষার সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। ১৯৭৭ সালের ‘থারাম মারিন্দি’ ছবির জন্যও তিনি নন্দী পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৮৫ সালে নির্মাণ করেন ‘ময়ূরী’। ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রনের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ছবিতে সুধাই অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়। পরে ‘নাচে ময়ূরী’ নামে হিন্দিতেও ছবিটি নির্মাণ করা হয়।

সংলাপ ছাড়াই ‘পুষ্পক বিমানম’

সিঙ্গীতমের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত কাজ গুলোর একটি ‘পুষ্পক বিমানম’। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া কমল হাসান ও অমলা অভিনীত ছবিটিতে প্রচলিত অর্থে কোনো সংলাপ ছিল না। শব্দ, অভিনয়, শরীরী ভাষা ও পরিস্থিতির মাধ্যমে গল্প এগিয়ে নিয়েছিলেন নির্মাতা।

সংলাপহীন এই চলচ্চিত্রের ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী ভারতীয় সিনেমায় সিঙ্গীতমের পরীক্ষাধর্মী ভাবনার অন্যতম উদাহরণ হয়ে ওঠে। ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা জনপ্রিয় বিনোদনমূলক চলচ্চিত্রের সম্মাননাও পায়।

কমল হাসানের সঙ্গে স্মরণীয় জুটি

সিঙ্গীতমের ক্যারিয়ারে অভিনেতা কমল হাসানের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখ যোগ্য। ‘সোম্মোকাদিদি সোকোকাদিদি’, ‘রাজা পারভাই’, ‘পুষ্পক বিমানম’, ‘অপূর্ব সগোথারাঙ্গাল’ ও ‘মাইকেল মাদানা কামা রাজন’-এর মতো সিনেমায় তাঁদের কাজ দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। কমল হাসানের অভিনয়কে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র ও পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার পাশাপাশি কমেডি, ব্যঙ্গ ও শারীরিক অভিনয়ের নানা পরীক্ষাও করেছেন সিঙ্গীতম।

সময়ভ্রমণ থেকে ফ্যান্টাসির জগৎ

১৯৯১ সালের ‘আদিত্য ৩৬৯’ সিঙ্গীতমের অন্যতম উচ্চাভিলাষী কাজ। নন্দমুরি বালকৃষ্ণ অভিনীত বিজ্ঞান কল্পকাহি নিনির্ভর এই ছবিতে সময় ভ্রমণের গল্প বলা হয়। তেলুগু সিনেমায় বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ও সময় ভ্রমণকে বড় পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ছবিটি বিশেষ ভাবে আলোচিত হয়।

এরপর ‘ভৈরব দ্বীপম’-এর মতো ছবিতে তিনি লোককথা, পুরাণ, ফ্যান্টাসি ও অ্যাডভেঞ্চারের সমন্বয়ে নতুন ধরনের গল্প বলার চেষ্টা করেন।

একাধিক ভাষায় নির্মাণ

সিঙ্গীতম শুধু তেলুগু সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তেলুগুর পাশাপাশি কন্নড়, তামিল, হিন্দি ও অন্যান্য ভাষার সিনেমাতেও কাজ করেছেন। কন্নড়ের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কুমারের সঙ্গেও তাঁর সফল সহযোগিতা ছিল। রাজ কুমারের সঙ্গে ‘হালু জেনু’, ‘চালিসুভা মোদাগালু’, ‘এর্দু নক্ষত্রাগালু’ ও ‘ভাগ্যদা লক্ষ্মী বারাম্মা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি।

সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাওয়ের সাফল্য

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক নন্দী পুরস্কার, কর্ণাটক রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০১১ সালে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া তাঁকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করে। পরের বছর তিনি বি এন রেড্ডি জাতীয় পুরস্কারও পান। তবে পুরস্কারের বাইরেও তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে সিনেমা নির্মাণের সাহস। এক ছবির সঙ্গে আরেক ছবির যেন মিল না থাকে সৃষ্টিশীল জীবনে এমন বৈচিত্র্যই ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

নব্বই পেরিয়েও সিনেমায় সক্রিয়

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ দিকেও সিনেমার প্রতি আগ্রহ হারাননি সিঙ্গীতম। ২০২৬ সালে ‘সিং গীতম’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবার পরিচালনায় ফেরেন তিনি। ছবিটি প্রযোজনা করেন ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’খ্যাত নির্মাতা নাগ অশ্বিন।

৯৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র হারাল এমন এক নির্মাতাকে, যিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় নিজেকে আটকে রাখেননি। সংলাপহীন সিনেমা থেকে সময়ভ্রমণ, ফ্যান্টাসি থেকে জীবনী ভিত্তিক গল্প প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন সিঙ্গীতম। তাঁর সিনেমা গুলোই এখন তাঁর দীর্ঘ সৃষ্টিশীল জীবনের সবচেয়ে বড় স্মারক হয়ে থাকবে।

সূত্র: তেলেঙ্গানা টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Share

Read more

Local News