একটি সিনেমা হঠাৎ বিমানের পর্দা থেকে সরে গেলেই সেটি নিষেধাজ্ঞা , এমনটা নয়। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা দুটি আপাতত আর দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর এর কারণ ব্যাখ্যা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিনেমা দুটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়। বরং এটি তাদের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (Inflight Entertainment) বা উড়োজাহাজের বিনোদন কনটেন্ট নিয়মিত পরিবর্তনের অংশ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর ফ্লাইটে থাকা সিনেমা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং অডিও কনটেন্টের তালিকা পরিবর্তন করে।
সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ এর স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, প্রায় দুই মাস আগে তাদের জানানো হয় যে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আপাতত বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শন করা হবে না।


তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমা দুটি দশ বছরের বেশি সময় ধরে বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হওয়ায় আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আবারও সিনেমা দুটি প্রদর্শন করা হতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টে কনটেন্ট পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করে।
এর মধ্যে রয়েছে :
- লাইসেন্স চুক্তির মেয়াদ
- উড়োজাহাজের সার্ভারে সীমিত স্টোরেজ
- যাত্রীদের সন্তুষ্টি
বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রদর্শিত সিনেমা বা অনুষ্ঠানের মালিক তারা নয়। মিডিয়া ব্রোকার ও কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব কনটেন্ট প্রদর্শনের স্বত্ব নেওয়া হয়। চুক্তির সময় শেষ হলে অথবা নতুন কনটেন্ট যুক্ত করার প্রয়োজন হলে পুরোনো কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হয়।
‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমার তথ্য
তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদসহ অনেকে। অন্যদিকে ‘চিত্রা নদীর পারে’ মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবী। দুটি সিনেমাই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একাধিক বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছে।









