নেপালের মঞ্চে প্রথমবার নাটক নির্দেশনা দিলেন দেশের বরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ। নেপালি একটি নাট্যদলের জন্য তাঁর নির্দেশনায় মঞ্চে এসেছে ‘আয়ো গোর্খালি’। নেপালি ও ইংরেজি ভাষার এই প্রযোজনায় উঠে এসেছে গোর্খা যোদ্ধাদের ইতিহাস, বীরত্ব, বৈষম্য ও অধিকারবঞ্চনার গল্প।
সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সর্বনাম থিয়েটার মিলনায়তনে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার একই মঞ্চে হয়েছে দ্বিতীয় প্রদর্শনী। নেপালি দর্শকরাও আগ্রহ নিয়ে প্রযোজনাটি উপভোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

বীরত্বের আড়ালের গল্প
‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকের কেন্দ্রে রয়েছে নেপালের গোর্খা যোদ্ধাদের ইতিহাস। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করা এই যোদ্ধারা সাহস ও আনুগত্যের জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন। তবে যুদ্ধের ময়দানে অবদানের পরও পরবর্তী সময়ে অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের যে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে, নাটকের মূল আখ্যান ঘুরেছে সেই দ্বন্দ্বকে ঘিরে।
বীরত্বের প্রচলিত বয়ানের বাইরে গোর্খা যোদ্ধাদের জীবন ও অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযোজনাটিতে। যুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি উঠে এসেছে বৈষম্য, অধিকারবঞ্চনা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। সরাসরি ইতিহাস তুলে ধরার বদলে রূপক ও নাট্যভাষার মাধ্যমে এসব বিষয় মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চার দশকের সম্পর্ক থেকে মঞ্চনাটক
‘আয়ো গোর্খালি’ লিখেছেন হংকংয়ের নাট্যকার মক চিউ ইয়ু। তাঁর সঙ্গে মামুনুর রশীদের সম্পর্ক প্রায় চার দশকের। গোর্খাদের জীবন ও ইতিহাস নিয়ে একটি নাটক তৈরির পরিকল্পনাও ছিল তাদের দীর্ঘদিনের।
প্রায় দেড় দশক ধরে বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন মক চিউ ইয়ু। বিভিন্ন সময়ে মামুনুর রশীদের সঙ্গে হয়েছে এ নিয়ে আলোচনা। চলতি বছর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হওয়ার পর সর্বনাম থিয়েটার কর্তৃপক্ষ মামুনুর রশীদকে নির্দেশনার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

তিন দেশের শিল্পীদের এক মঞ্চে
নেপাল, আয়ারল্যান্ড ও হংকংয়ের শিল্পীদের নিয়ে প্রায় এক মাস চলে নাটকটির মহড়া ও প্রস্তুতি। ভিন্ন দেশের শিল্পীদের অভিনয়শৈলী, ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি অভিন্ন মঞ্চভাষা তৈরি করা ছিল এই প্রযোজনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
নাটকটিতে অভিনয় করেছেন আয়ারল্যান্ডের মাইক, হংকংয়ের কারমেন ও জেসিকা এবং নেপালের আরুশ ম্যাগার, হিরা হামাল ও বিভুসা।
নতুন অভিজ্ঞতা মামুনুর রশীদের
এর আগে নেপালের মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে কাজ করলেও নেপালি ভাষার কোনো নাটক নির্দেশনা দেওয়ার অভিজ্ঞতা মামুনুর রশীদের এবারই প্রথম। প্রায় এক মাসের মহড়ায় বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামুনুর রশীদের ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল তাঁর জন্য সৃজনশীলভাবে সমৃদ্ধ এক অভিজ্ঞতা। তাঁর মতে, ‘আয়ো গোর্খালি’ শুধু নেপালের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে মঞ্চে তুলে ধরছে না, তিন দেশের শিল্পীদের সৃজনশীল সহযোগিতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।






