শাকিব খান
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে নতুন রাজনৈতিক সরকার শপথ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৮ মাস পর সরকার পেল বাংলাদেশ। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার পারদও তাই খুবই উঁচু। দেশের নানা সমস্যার মত শিল্প ও চলচ্চিত্র জগতেও পরিবর্তন চাচ্ছেন শিল্পীরা। সেই সূত্রে ঢাকাই সিনেমার মেগাস্টার শাকিব খান নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানালেন যেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়।
সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন ঢাকাই সিনেমার এই নায়ক। তাঁর মতে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক পুরনো। পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতিকে দূরীকরণ করা খুবই জরুরী। তাঁর মতে, পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক। মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

এছাড়া, শাকিব খান সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে, এতে হওয়া সকল অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া উচিত। যেন প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পান।
এছাড়াও শাকিব খান দেশের প্রেক্ষাগৃহের অবস্থাও সামনে আনেন। তাঁর মতে, সিনেমা হলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সারা দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। একটা সময় প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও তার কোন উন্নতি না হওয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
তিনি বলেন, ’মানুষ পরিবার নিয়ে আবার ছবি দেখছে, তাদের শুধু সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে। সারা দেশে যেসব বন্ধ ও জরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে, সেগুলোর সংস্কারে স্বল্প সুদে ঋণ, করছাড় ও পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনেও উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।

শাকিব খান নতুন সরকারকে যে পরিকল্পনা দিলেন
এছাড়াও শাকিব খান বলেন, ‘যেসব জেলায় প্রেক্ষাগৃহ নেই, সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ বানানো যেতে পারে। এতে নির্মাণ ব্যয় কমবে, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও যুক্ত হতে পারবেন। নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সছাড়, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা, আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রে শুল্ক কমানো-এসব প্রণোদনা দিলে বিনিয়োগ বাড়বে। ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড, অনলাইন টিকেটিং-এসব বাধ্যতামূলক বা প্রণোদিত করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং হলমুখী দর্শক বাড়বে। দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তা-এসব দর্শক টানতে সাহায্য করবে।‘
তবে প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা ছাড়াও যেকোন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও আহ্বান জানান শাকিব। তাঁর মতে দেশের বিভিন্ন উপলক্ষেও চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনও করা যেতে পারে।
তবে এই মেগাস্টার সর্বশেষ জোর দিয়েছেন সরকারের স্বদিচ্ছার প্রতি। সরকারকে তিনি, পেশাদার ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি জানান যাতে সিনেমা শিল্প আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারে।


