জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস – বই, জ্ঞান আর আগামীর বাংলাদেশ
বইয়ের দোকান, অনলাইন, মোবাইল, সবখানেই আজ বই আছে। তবু গ্রন্থাগারে ঢুকলেই একটা আলাদা অনুভূতি আসে; শব্দ কম, মনোযোগ বেশি। টেবিলের ওপর ছড়ানো নোটখাতা, বইয়ের পাতার মিহি গন্ধ, আর জানালার পাশে বসে থাকা নিরবে পড়ুয়া মানুষগুলো, এগুলো মিলেই গ্রন্থাগারকে শুধু “বই রাখার জায়গা” নয়, এক ধরনের অভ্যাসের ঘর বানিয়ে দেয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়
এই দিনটা বেছে নেওয়ার পেছনেও ইতিহাস আছে। ১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির (কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, সেই স্মৃতিকে সম্মান জানিয়েই দিনটি জাতীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত আসে।

আর পাঠাভ্যাস তৈরি, সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, এমন লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৫ ফেব্রুয়ারিকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়; এরপর ২০১৮ সাল থেকে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটির অনুষ্ঠানগুলো বছরভেদে ভিন্ন হতে পারে, কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও বইপাঠ প্রতিযোগিতা, কোথাও নতুন সদস্য সংগ্রহ কিন্তু উদ্দেশ্য মোটামুটি একটাই: মানুষকে আবার লাইব্রেরিমুখী করা। কারণ গ্রন্থাগার মানে শুধু পাঠক-সেবা নয়; এটা একটা সামাজিক বিনিয়োগ। যে সমাজ বই পড়ে, সে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে আর প্রশ্ন করা থেকেই তো চিন্তার বিকাশ।
২০২৬ সালের জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে …..
“জ্ঞানেই মুক্তি , আগামীর ভিত্তি ”
এই কথাটার ভেতরে খুব বাস্তব একটা বার্তা আছে: জ্ঞান মানুষকে মুক্ত করে, অন্ধ বিশ্বাস থেকে, সংকীর্ণতা থেকে, ভুল তথ্য থেকে। আর সেই মুক্ত মানুষই নিজের জীবন, পরিবার, এমনকি দেশকেও বদলাতে পারে।
লাইব্রেরি সংস্কৃতি
অনেকে বলেন, “এখন তো সব গুগলে” তাই গ্রন্থাগারের দরকার কী? কিন্তু গুগলে তথ্য থাকে, গ্রন্থাগারে থাকে মনোযোগ। গ্রন্থাগার এমন একটা জায়গা যেখানে পড়াশোনার ছন্দ তৈরি হয়, চাকরিপ্রার্থী, ছাত্র, গবেষক, এমনকি যারা শুধু গল্প পড়ে দিন শেষ করতে চায়, সবারই একটা আশ্রয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ নানা প্রতিষ্ঠান এই দিনকে ঘিরে পাঠাভ্যাস ও লাইব্রেরি-এনগেজমেন্ট বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালায় এটা দেখায় যে “লাইব্রেরি সংস্কৃতি” এখনও জীবন্ত।
জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস তাই একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটা মনে করিয়ে দেয়, বই পড়া আসলে ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি সামষ্টিক উন্নতিরও ভিত্তি। আজ আপনি যদি একটি লাইব্রেরিতে ঢুকে ২০ মিনিট চুপচাপ পড়েন, সেটা ছোট কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু ওই ছোট অভ্যাস থেকেই তৈরি হয় বড় পরিবর্তন, মানুষ বদলায়, চিন্তা বদলায়, আর ধীরে ধীরে বদলায় দেশও।


