তাহসান-রোজার বিচ্ছেদের কারণ
ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সবাইকে চমকে দিয়ে বিয়ের খবর জানান গায়ক ও অভিনয়শিল্পী তাহসান রহমান খান। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদকে বিয়ে করেছেন তিনি এমন খবর বিনোদন অঙ্গনে আসে। জানতে পারে দেশের মানুষ। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টানা কয়েক দিন ট্রেন্ডিংয়ে ছিল তাহসানের বিয়ের খবর। তবে ১ বছর শেষ হতে না হতেই এলো বিচ্ছেদের সংবাদ। শনিবার দেশের গণমাধ্যমকে তাহসান নিজেই তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রশ্ন উঠছে তাহসান ও রোজার বিচ্ছেদের পেছনের কারণ কী ?
এই বিচ্ছেদের খবরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন জাগছে মানুসের মনে। রোজার সাথে প্রেম করার পর বিয়ে—তারপর এত দ্রুত কিভাবে বিচ্ছেদও হয়ে গেল তা নিয়ে ভক্ত ও বিনোদন সংলিশটো সকলের ব্যাপক আগ্রহ। এই জুটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সময়টা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীতসফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকছিলেন। তবে বিষয়টি টের পায়নি কেউই। রোজা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করতেন। এতে অনেকের ধারণা ছিল, সম্পর্কটি এখনো টিকে আছে। তবে ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

তাহসান ও রোজার বিচ্ছেদের পেছনের কারণ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাহসান ও রোজার ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার জায়গায় কিছু পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান চেয়েছিলেন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করতে। সে কারণেই বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়েও নিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। সংসারেই থিতু হতে চেয়েছিলেন তাহসান ।
অন্যদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর বেড়েছে। নতুন এই পরিচিতি অ সামাজিক বাস্তবতাকে তিনি উপভোগ করছিলেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনযাপনের ধারা ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। একজন যাপন করতে চেয়েছেন নীরব ও নিরবিচ্ছিন্ন জীবন আরেকজনের জীবনযাত্রা কেবল শুরু, সামাজিক প্রতিপত্তি বেড়েছে, খ্যাতি বেড়েছে, তিনি চাইছিলেন রঙ্গচটা জীবন।

ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্যমতে, শুরুতে এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হলেও একসময় মতের অমিল প্রকট হয়ে ওঠে। কাউকে দোষারোপ না করে, পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন দুজনই। জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তাহসানের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাহসান বরাবরই সংযত। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন।
বিচ্ছেদের অসূত্র সমর্থিত কারণ
তবে আরেকটি গুঞ্জনও উঠেছে এই বিচ্ছেদের পেছনে, তবে তার সত্যতা কোন পক্ষ থেকেই এখনো যানা যায়নি। তাহসান ও মিথিলা জুটির কন্যা আইরাকে কেন্দ্র করে তাহসান মিথিলার যোগাযোগ হচ্ছিলো প্রায় নিয়মিতই যা নাকি এই বিচ্ছেদে বেশ প্রভাব রেখেছে। তবে এটি কেবলই গুঞ্জন,এর সত্যতা কোন পক্ষ থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তাহসান বলেছিলেন বিষয়টি অনেক বড় তাই সময় হলে সবকিছু গুছিয়ে আনতে পারলে তবেই প্রকাশ করবেন এই বিচ্ছেদের কাহিনী। ততদিন পর্যন্ত চলছে কিংবা চলবে নানা সমীকরণ মেলানো।
