স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমাজগঠনে অবদানের স্বীকৃতি
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। এছাড়াও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে সরকার। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান দেওয়া হয় এই সম্মাননা। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারীশিক্ষায় অবদানে এই পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে রাজনীতিতে যুক্ত হন খালেদা জিয়া। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দলের নেতৃত্বে আসেন। এরপর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হলে খালেদা জিয়া প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ২০০১ সালেও তার নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং বিদেশে শ্রমবাজার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিরোধী দলে থাকাকালেও তিনি রাজপথে আন্দোলন করেছেন। সংসদেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতা পদক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার এই সম্মান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্বীকৃতি।
হানিফ সংকেত পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার
এই মিলনায়তনে ও বাইরে বসে যারা অনুষ্ঠান দেখছেন, সবাইকে স্বাগতম।’ এভাবেই শুরু করেন উপস্থাপক হানিফ সংকেত। এরপর মিলনায়তনে দর্শকদের করতালি শোনা যায়। করতালি থামলে তিনি বলেন, ‘প্রীতি নিন, শুভেচ্ছা নিন।’ এভাবেই দর্শকদের মন জয় করেন তিনি।

পুরস্কার দর্শকদের উৎসর্গ করলেন হানিফ সংকেত
দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত। নব্বই দশক থেকে তিনি টেলিভিশনে কাজ করছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দর্শকদের বিনোদন দিচ্ছেন। উপস্থাপনাকে যে একটি আলাদা শিল্প, তা তিনি প্রমাণ করেছেন।

মৃত্যুর ১২ বছর পর পুরস্কার পাচ্ছেন বশির আহমেদ
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। দেশের সংগীতে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর ১২ বছর পর মরণোত্তর এই পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি।

১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই গান শেখেন ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন খানের কাছে। পরে মুম্বাই গিয়ে বলিউডে গান গাওয়ার সুযোগ পান। গীতা দত্ত ও আশা ভোঁসলের সঙ্গে ডুয়েট গানও গেয়েছেন। ১৯৬০ সালে তালাত মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৪ সালে সপরিবারে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। উর্দু চলচ্চিত্রে অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়ে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
বিজ্ঞান, সাহিত্য, ক্রীড়া ও সমাজসেবায় যারা পেলেন পদক
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক জহুরুল করিম। সাহিত্যে মরণোত্তর সম্মান পাচ্ছেন আশরাফ সিদ্দিকী। ক্রীড়ায় পুরস্কার পাচ্ছেন জোবেরা রহমান (লিনু)।
সমাজসেবায় অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একই বিভাগে সম্মানিত হচ্ছেন মো. সাইদুল হক এবং মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)। জনপ্রশাসনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর পুরস্কার পাচ্ছেন কাজী ফজলুর রহমান।

এছাড়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের জন্য সম্মাননা পাচ্ছেন আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে পাঁচ প্রতিষ্ঠান
এছাড়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য পুরস্কার পাচ্ছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। চিকিৎসাবিদ্যায় সম্মাননা পাচ্ছে চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ।

পল্লী উন্নয়নে অবদানের জন্য পুরস্কার পাচ্ছে পিকেএসএফ। সমাজসেবায় সম্মাননা পাচ্ছে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।