সাফা কবির ‘মৎস্যকন্যা’
সোমবার ২৬ জানুয়ারি কক্সবাজারে ‘মৎস্যকন্যা’ নাটকের শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। শুটিং-এ তার সাথে ছিলেন খায়রুল বাসার ও পরিচালক সেরনিয়াবাত শাওন। শুটিং শেষে দেশের এক গণমাধ্যমকে সাফা কবির ‘মৎস্যকন্যা’ শুটিংয়ের গল্প শোনালেন, ভাগ করলেন পানির নিচের অভিজ্ঞতাও।
‘মৎস্যকন্যা’ কেমন নাটক জানতে চাইলে সাফা কবির জানান এটি একটি নিরীক্ষাধর্মী নাটক। সাফা জানালেন গল্পটা এক মৎস্যকন্যাকে নিয়ে। এই মৎস্যকন্যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। সেজন্য মারমেইডের একটা কস্টিউমও বানাতে হয়েছে। জীবনে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার শুটিংও করেছেন তিনি। কক্সবাজারের প্রেসিডেন্ট বিচে ও ইনানী বিচে শুটিং হয়েছে নাটকটির।

আন্ডারওয়াটার শুটিং করতে কেমন লেগেছে জানতে চাইলে সাফা কবির জানান, ‘শীতে আন্ডারওয়াটার শুটিং অনেক কষ্টের। তার মধ্যে মারমেইডের কস্টিউম পরে বেশি নড়াচড়া করা যায় না। সাঁতার কাটাও খুব চ্যালেঞ্জিং। এছাড়াও একদিন টানা ছয় ঘণ্টা মারমেইড পোশাক পরে একভাবে বসে ছিলেন, নড়া-চড়াও করতে পারেনি তিনি।
মারমেইডের এই পোশাকটি সাফাকে বানিয়ে দিয়েছেন তার বন্ধু সাগুফতা। ১৫ দিন সময় নিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাফা কবির ‘মৎস্যকন্যা’ শুটিংয়ের বাস্তব চিত্র
মারমেইডের পোশাকে সমুদ্রের পানিতে ভয় কেমন লেগেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মারমেইডের পোশাক পরে ঝাঁপ দিয়ে সাগরে ডুব দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিলাম। যে করেই হোক দৃশ্যটা করব, এমনই ছিল চাওয়া। পরিচালকসহ ইউনিটের সবাইকে বলেছিলাম, যদি ভেসেও যাই, মরেও যাই, আমি শটটা দিতে চাই। টিমকে এ–ও বলেছিলাম, যদি পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে উঠে না আসি, তাহলে তোমরা আমাকে নিয়ে এসো। অভিনয়জীবনে এমন ঝুঁকি কয়েকবার নিয়েছি, যা কখনো বলা হয়নি।

সাফা কবির সাহসী কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,’সবাই ভাবেন, আমি খুব নরম স্বভাবের; এটা করতে পারব না, ওটা পারব না। কিন্তু আমি খুবই সাহসী। অনেকের এমনও ধারণা, তুমি গ্রামে শুটিং করো? অথচ আমি গ্রামের এমন সব জায়গায় শুটিং করেছি, যেখানে বসার, থাকার জায়গা, এমনকি ওয়াশরুমও নেই।
তবে ব্যক্তিজীবনে খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন সাফা। কিন্তু শুটিংয়ে ময়লা তাঁর কাছে তেমন কিছু মনে হয়না। এ নিয়ে তিনি বলেন,‘শুটিংয়ে যখন যাই, ড্রেনের পাশে বসেও ভাত খাই। আমাদের এখানে বেশির ভাগ জায়গা শুটিংবান্ধব নয়। শিল্পীদের কমফোর্ট দিতে পারে না।
আরো শুটিংয়ের গল্প

এছাড়াও তার কাছে জানতে চাওয়া হয় শুটিংয়ে যে এত কষ্ট করেন তিনি তার মা–বাবার তাতে কততুকু সায় আছে? এ নিয়ে সাফা কবির বলেন, ‘মা–বাবাকে কষ্টের কথা বলিই না। এখনো বাবাকে যদি বলি শরীরটা ভালো লাগছে না, জ্বর আসছে মনে হয়; বাবা সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, জ্বর নিয়ে কিসের শুটিং, তুমি না করে দাও, বাসায় চলে আসো। আমাকে এমনও বলা হয়েছিল, নয়টার পর কোনো শুটিংয়ের দরকার নেই। আমার মা–বাবা এখনো বলেন, এত কষ্ট করার দরকার নেই। শুধু প্যাশনের কারণে এটা করছি। জীবনে এমনও দিন গেছে, কুহেলিকা নামের একটা ওয়েব ফিল্মের জন্য টানা ২৮ ঘণ্টা শুটিং করেছি। রাঙামাটিতে। যদিও বিরতি ছিল। কিন্তু টানা ২৮ ঘণ্টা শুটিং সেটে স্ট্যান্ডবাই ছিলাম। দেখা গেছে, ঘুমে পড়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে ডাক পড়ছে, এটাও খুবই কষ্টকর অভিজ্ঞতা ছিল।‘
‘মৎস্যকন্যা’ নাটকটি কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে এ নিয়ে কিছুই প্রকাশ করেননি এই তারকা অভিনেত্রী।


