সাত গম্বুজ মসজিদের ইতিহাস …..
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থিত সাত গম্বুজ মসজিদ মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। ইতিহাসবিদদের মতে, মসজিদটি ১৭শ শতকে নির্মিত হয়, যখন বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। ধারণা করা হয়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে কোনো মুঘল সুবাদার বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এটি নির্মাণ করেন। সে সময় ঢাকার চারপাশে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থাপনা গড়ে উঠেছিল, যার মধ্যে সাত গম্বুজ মসজিদ অন্যতম।
মসজিদটির নামকরণ হয়েছে এর গম্বুজের সংখ্যার ভিত্তিতে। মূল কাঠামোর উপর তিনটি গম্বুজ রয়েছে এবং চার কোণায় চারটি ছোট গম্বুজ আকৃতির মিনার থাকায় একে “সাত গম্বুজ” বলা হয়। লাল ইটের তৈরি এই স্থাপনায় মুঘল আমলের নকশা ও কারুকাজের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। দেয়ালের খিলান, মেহরাবের অলংকরণ এবং গম্বুজের গঠনশৈলী সেই সময়কার স্থাপত্যরীতির পরিচয় বহন করে।
একসময় মসজিদটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের খুব কাছাকাছি ছিল। নদীপথে যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীরা এখানে নামাজ আদায় করতেন বলে জানা যায়। কালের প্রবাহে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হলেও মসজিদটি এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সাত গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে এটি দেখতে আসেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির সংরক্ষণ কাজও পরিচালিত হচ্ছে। পুরনো ইটের গাঁথুনি আর স্থাপত্যশৈলী আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মুঘল আমলের স্থাপত্য ঐতিহ্য জানতে চাইলে সাত গম্বুজ মসজিদ এক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

