রুথ ই. কার্টার
একাডেমী অ্যাওয়ার্ডস তথা অস্কারে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের হয়ে অসামান্য মাইলফলক স্থাপন করেছেন রুথ ই. কার্টার। এ বছর “সিনার্স” ছবির জন্য অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ার মাধ্যমে, রুথ ই. কার্টার- অস্কারের ইতিহাসে সর্বাধিক মনোনীত কৃষ্ণাঙ্গ নারী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার একাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস নিশ্চিত করেছে। জিম ক্রো-যুগের মিসিসিপি ডেল্টার পটভূমিতে ও রায়ান কুগলারের নির্মিতি ব্লুজ-স্টিপড ভ্যাম্পায়ার মহাকাব্যে সিনার্স-এ কাজের জন্য এই ;পথপ্রদর্শক পোশাক ডিজাইনার’কে স্বীকৃতিটি দেওয়া হয়েছে।
তিনি এর আগে ২০১৮ সালে “ব্ল্যাক প্যান্থার” এবং ২০২৩ সালে “ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার”-এর জন্য অস্কার জিতে দুইবার একাডেমি পুরষ্কার জেতা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হয়েছিলেন।

বর্তমানে সবমিলিয়ে কার্টার এখন পাঁচবারের অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গ নারী। এর মধ্য দিয়ে তিনি অস্কারজয়ী অভিনেতা ভায়োলা ডেভিসকে (চারবার) ছাড়িয়ে গেছেন। কার্টার এখন স্পাইক লি ও মরগান ফ্রিম্যান এর সম পর্যায়ে আছেন। তাঁর সামনে আছেন কেবল প্রয়াত অভিনেতা কুইন্সি জোন্স (৭বার) এবং ডেনজেল ওয়াশিংটন (৯বার)।
পোশাক নকশায়, কার্টারকে এবার ডেবোরা এল. স্কট (“অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ”), কেট হাওলি (“ফ্রাঙ্কেনস্টাইন”), মালগোসিয়া তুর্জানস্কা (“হ্যামনেট”) এবং মিয়াকো বেলিজি (“মার্টি সুপ্রিম”) এর সাথে মনোনীত করা হয়েছে।

“সিনার্স”-এর ঐতিহাসিক মনোনয়নে কার্টার ছিলেন এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। “সিনার্স”-এবার অস্কারে সর্বাধিক ১৬টি মনোনয়ন পেয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়নের মধ্যে ছিল মাইকেল বি. জর্ডান, ডেলরয় লিন্ডো এবং উনমি মোসাকুর অভিনয় মনোনয়ন।
রুথ ই. কার্টার- অস্কারের কালোদের ইতিহাস বিনির্মাণ
“এটি হলিউডে আমাদের (কৃষ্ণাঙ্গ) কণ্ঠস্বরের বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ,” কার্টার এপিকে বলেন।
কার্টার তার দীর্ঘ কর্মজীবনে হলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী ছবির ভিজ্যুয়াল ভাষা গড়ে দিয়েছেন। স্পাইক লির ‘ম্যালকম এক্স’ এবং স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘অ্যামিস্টাড’ ছবিতে কস্টিউম ডিজাইনের জন্য তিনি অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন। পাশাপাশি ‘দ্য বাটলার’, ‘সেলমা’ এবং ‘রুটস’-এর পুনর্নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রজেক্টে তাঁর নির্মিত ঐতিহাসিক পোশাক বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে।

কার্টারের নকশা করা পোশাক পরেছেন ডেনজেল ওয়াশিংটন, ওপরা উইনফ্রে, এডি মারফি ও জেরি সাইনফেল্ডের মতো তারকারাও। এমনকি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘সাইনফেল্ড’-এর মূল পাইলট পর্বেও ব্যবহৃত হয়েছিল তাঁর তৈরি পোশাক।
তিনি বলেন, “আমার যাত্রাটা মূলত সংস্কৃতির গল্প বলার মধ্য দিয়েই এগিয়েছে। আমরা যখন কথা বলছি তখন, এই সময়েই আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। তাই আমাদের গল্পগুলো বলার দায়িত্ব পাওয়া — যতটা সম্ভব সত্যনিষ্ঠভাবে তা তুলে ধরা — এবং তার স্বীকৃতি পাওয়া, আমার কাছে এক ধরনের উদ্যাপন।”
‘সিনার্স’ ছবিতে কস্টিউম ডিজাইনকে তিনি অলংকরণের বিষয় হিসেবে নয়, বরং এক ধরনের সুরক্ষার কাজ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিংশ শতকের শুরুর দিকের কৃষিশ্রমিক ও অভিবাসীসহ কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের ভিজ্যুয়ালকে তুলে ধরা ও সেসবের সত্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং তা রক্ষা করা।
কার্টার বলেন, এই মনোনয়ন এমন একটি শিল্পে টিকে থাকার শক্তির প্রতিফলন, যে শিল্পটি প্রায়ই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয়।

এই মনোনয়নের তরুণদের তিনি বলেন, “আমিই প্রথম মনোনীত হয়েছিলাম। আমি প্রথম জয়ী হয়েছিলাম। আর এখনও আমি এই মাঠেই আছি,” বলেন তিনি। “আমার এখানে থাকা যদি তরুণ ডিজাইনারদের জন্য কোনো বার্তা দেয়, তাহলে আমি চাই তারা বুঝুক—এটা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটা কঠোর পরিশ্রম। এটা নিজের কণ্ঠস্বর। এটা দৃষ্টিভঙ্গি। আর এটা টিকে থাকার গল্প।”


