হওয়া সিনেমার নির্মাতার নতুন চমক
রইদ সিনেমা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। ‘হাওয়া’ দিয়ে সিনেমা হলে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। সিনেমার ‘সাদা সাদা কালা কালা’ শিরোনামের গানটি জনপ্রিয় হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার কোরবানি ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রইদ’। ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

ঈদকে ঘিরেই সব প্রস্তুতি চলছে
রইদ সিনেমা কোরবানি ঈদেই মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন নিজেই। তিনি জানান, ঈদকে ঘিরেই সব প্রস্তুতি চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। দর্শকদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশেষ এক চমক।
মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রইদ
রইদ সিনেমা মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়ে। গেল বছরের শেষে পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশের পরই প্রশংসা পায় ছবিটি। এরপর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম (আইএফএফআর)-এর ৫৫তম আসরেও প্রদর্শিত হয়। সেখানে দর্শকদের উচ্ছ্বাস নির্মাতাকে আরও আশাবাদী করে তুলেছে।

সম্পর্ক, সংগ্রাম ও বাস্তবতায় রইদ
রইদ সিনেমা গড়ে উঠেছে এক সাধু এবং তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে কেন্দ্র করে। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। তাদের চরিত্রের গভীরতা ও আবেগ গল্পকে করেছে আরও শক্তিশালী। ছবিটির কাহিনিতে রয়েছে সম্পর্ক, সংগ্রাম ও বাস্তবতার ছাপ।
বাস্তব নির্মাণে রইদের বড় চমক
রইদ সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক এর নির্মাণ প্রক্রিয়া। শুটিংয়ের জন্য ফাঁকা জায়গায় প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগানো হয়। ছয় মাস ধরে সেই গাছগুলোর যত্ন নেওয়া হয়েছে। পুরো লোকেশনকে গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এছাড়া কোনো কৃত্রিম গ্রাফিক্স ব্যবহার না করে বাস্তব সেট তৈরি করা হয়েছে। একটি বাড়িও নির্মাণ করা হয় শুধুমাত্র শুটিংয়ের প্রয়োজনে। নির্মাতা মনে করেন, লোকেশন শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড নয়, গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রইদে জয়া আহসানের সরে দাঁড়ানো
শুরুর দিকে রইদ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জয়া আহসান। তিনি প্রযোজক হিসেবেও ছিলেন এবং সরকারি অনুদানও পেয়েছিলেন ছবিটি। তবে কাজ বিলম্ব হওয়ায় তিনি সরে দাঁড়ান এবং অনুদানের অর্থ ফেরত দেন। পরে ছবিটির প্রযোজনা করে বঙ্গ।

গল্প-চিত্রনাট্যে রইদের মজবুত ভিত্তি
রইদ সিনেমার গল্প লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও সেলিনা বানু মনি। চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। এই শক্তিশালী টিম ছবিটিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
সব মিলিয়ে রইদ সিনেমা হতে যাচ্ছে এবারের কোরবানি ঈদের অন্যতম আকর্ষণ। দর্শকদের প্রত্যাশা এখন অনেক উঁচুতে। ‘হাওয়া’র পর মেজবাউর রহমান সুমন আবারও বড় পর্দায় কতটা ঝড় তুলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।