মসজিদে নববী ………
মসজিদে নববী – ইসলামের ইতিহাসে এমন একটি স্থান, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, সংগ্রাম ও রাষ্ট্রগঠনের সূচনা। হিজরতের পর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন সর্বপ্রথম যে কাজটি হাতে নেন, তা ছিল একটি মসজিদ নির্মাণ। সেই সাধারণ কাঁচামাটির দেয়াল, খেজুর গাছের কাণ্ডের স্তম্ভ আর খোলা আকাশের নিচের প্রাঙ্গণই আজকের জাঁকজমকপূর্ণ মসজিদে নববীর সূচনা।
শুরুর দিকে মসজিদটি ছিল খুবই সরল। ছাদ ছিল খেজুর পাতায় তৈরি, মেঝে ছিল বালুময়। কিন্তু এই সরল স্থাপনাই হয়ে ওঠে মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র। এখানেই নামাজ আদায় হতো, এখানেই সাহাবিরা শিক্ষা গ্রহণ করতেন, রাষ্ট্রীয় পরামর্শসভা বসত, এমনকি যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গেও আলোচনা হতো। অর্থাৎ এটি কেবল ইবাদতের স্থান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র ছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে নববীর পরিধি বৃদ্ধি পেতে থাকে। খলিফা হজরত উমর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর আমলে এর সম্প্রসারণ হয়। পরবর্তীতে উমাইয়া, আব্বাসীয় ও উসমানি শাসকেরা মসজিদটিকে আরও সুদৃশ্য ও বিস্তৃত করেন। আধুনিক সৌদি সরকারের আমলে এর বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার ফলে আজ লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদে নববীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রওজা মোবারক, যেখানে নবী করিম (সা.) সমাহিত আছেন। তাঁর পাশে শায়িত আছেন হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত উমর (রা.)। মুসলমানদের কাছে এই স্থান অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন।
সবুজ গম্বুজ, যা “গ্রীন ডোম” নামে পরিচিত, মসজিদে নববীর একটি পরিচিত প্রতীক। যদিও এটি প্রাথমিক স্থাপনার অংশ ছিল না, পরবর্তী সময়ে নির্মিত এই গম্বুজ আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক চিহ্নে পরিণত হয়েছে।
মসজিদে নববীর ইতিহাস কেবল ইট-পাথরের বিবর্তন নয়; এটি ঈমান, ত্যাগ ও নেতৃত্বের এক জীবন্ত দলিল। যুগে যুগে এর রূপ বদলেছে, কিন্তু এর আত্মা, ঐক্য, ইবাদত ও মানবতার বার্তা, অপরিবর্তিত রয়েছে।


