প্রজেক্ট হেইল মেরি
২০২৬ সালের ৯ মার্চ লন্ডনে জাঁকজমক প্রিমিয়ারের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। এরপর ২০ মার্চ অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় সিনেমাটি এবং সনি পিকচার্স রিলিজিং ইন্টারন্যাশনাল অন্যান্য অঞ্চলে ছবিটি পরিবেশন করে। মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে ১৪০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এই আয়ের মাধ্যমে ২০২৬ সালের যেকোন সিনেমার মধ্যে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ওপেনিংয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।
এই সায়েন্স ফিকশন সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন রায়ান গসলিং। গল্পে তিনি একজন সাধারণ বিজ্ঞান শিক্ষক, যিনি এক পর্যায়ে মানবজাতিকে রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। হঠাৎ করেই তিনি জড়িয়ে পড়েন এক মহাকাশ মিশনে, যেখানে পৃথিবীকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচানোই তার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। চরিত্রটির আবেগ, দ্বন্দ্ব এবং দায়িত্ববোধ দর্শকদের সঙ্গে সহজেই সংযোগ তৈরি করেছে।

সিনেমাটির গল্প তৈরি হয়েছে অ্যান্ডি উইয়ার-এর জনপ্রিয় উপন্যাস থেকে। এর আগে তাঁর আরেকটি বই অবলম্বনে নির্মিত দ্য মার্শিয়ান দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ও দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার, যারা এর আগে ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’ ও দ্য লেগো মুভি-এর মতো জনপ্রিয় কাজের জন্য পরিচিত। তাঁদের নির্মাণশৈলীতে সিনেমাটি হয়ে উঠেছে ভিজ্যুয়ালি আকর্ষণীয় এবং আবেগঘন এক মহাকাশ অভিযান।
‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’- চিন্তাকে প্রসারিত করা সায়েন্স ফিকশন
মুক্তির পরই এটি ছাড়িয়ে গেছে স্ক্রিম ৭-কে, যা এর আগে বছরের সবচেয়ে বড় ওপেনিং ছিল। পাশাপাশি, ৮ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে এমজিএম অধিগ্রহণের পর এটি অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস-এর অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র হলেও অনেকেই একে ‘চিন্তাকে প্রসারিত করা সায়েন্স ফিকশন’ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, গল্পে কিছুটা পরিচিত ছকের উপস্থিতি রয়েছে এবং ক্রিস্টোফার নোলান-এর ইন্টারস্টেলার-এর ছায়াও অনুভূত হয়। তবে প্রায় সবাই একমত, রায়ান গসলিংয়ের অভিনয়ই ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
গসলিং নিজেও জানিয়েছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গল্পের সঙ্গে হাস্যরসের মিশ্রণই তাকে এই প্রকল্পে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর মতে, জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করতে এই উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। করোনা-পরবর্তী সময়ে সিকুয়েলবিহীন নতুন গল্পের সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় সাফল্য, যা ওপেনহাইমার ও ‘এফ ১’-এর পাশে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।


