প্রিয়াংকা চোপড়া
বলিপাড়ায় একসময় শাহরুখ খান, ও অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়ার সম্পর্ক নিয়ে চলেছে তুমুল আলোচনা। এবার আবার তাদের প্রসঙ্গ উঠে এলো প্রযোজক শৈলেন্দ্র সিংয়ের মুখে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ ও প্রিয়াংকার মধ্যে নানা বিষয়ে মিলের কথা জানালেন তিনি। কেবল অভিনেত্রী হিসাবে নয়, মানুষ হিসাবেও প্রিয়াংকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এ প্রযোজক। এছাড়াও আলোচনায় এসেছে প্রিয়াংকা চোপড়াকে কেন দেশ ছাড়তে হলো?
শৈলেন্দ্র সিং দাবি করেন বলিউড প্রিয়াংকা চোপড়ার সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। এমনকি অভিনেত্রীকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রযোজক বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়া উচিত ছিল প্রিয়াংকা চোপড়ার মতো মানুষের। আমি এ প্রশ্নটা একাধিকবার করেছি— বলিউডের কণ্ঠ তাহলে কে? তিনি বলেন, সবাই এ জায়গায় আসতে চান। গত ১৫ বছর ধরে এ জায়গায় প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা করণ জোহর ছিলেন এর কেন্দ্রে। কিন্তু কেন উনি বলিউডের মুখপাত্র হবেন?

প্রিয়াংকারই বলিউডের মুখপাত্র হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন শৈলেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, কিন্তু আমরা ওর সঙ্গে এমন আচরণ করলাম, যে ওকে দেশটাই ছাড়তে হলো। সবচেয়ে বুদ্ধিমতী অভিনেত্রীকে আমরা চলে যেতে দিলাম। শুধু অভিনেত্রী নয়, মানুষ হিসাবেও প্রিয়াংকা খুবই ভালো বলে জানান এ প্রযোজক।

‘দেশিগার্ল’খ্যাত অভিনেত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, শাহরুখ খান নিজের কাজ খুব ভালো বোঝেন। উনি জানেন- উনি কে। খ্যাতি সম্পর্কেও ওর ধারণা রয়েছে। প্রিয়াংকা ও শাহরুখ শীর্ষে থাকার মতো মানুষ। তাদেরই তো আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অ্যাম্বাসেডর হওয়া উচিত। তাদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। দুজনেই খুব প্রতিভাবান। খুব সুন্দরভাবে নিজেদের কর্মজীবন উপস্থাপন করতে পারে, নিজেকে সামাল দিতে পারে।
প্রিয়াংকা চোপড়াকে কেন দেশ ছাড়তে হয়েছে?
তবে এর আগে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জানিয়েছিলেন কেন তিনি বলিউড ছেড়েছেন। ড্যাক্স শেপার্ডের উপস্থাপনায় ‘আর্মচেয়ার এক্সপার্ট উইথ ড্যাক্স শেপার্ড’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে তিনি বলেছেন
“ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে দেওয়া হচ্ছিল,”। “কিছু মানুষের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, আর সত্যি বলতে কী—আমি এই ইন্ডাস্ট্রির ‘গেম’ খেলতে পারি না। রাজনীতি আর অন্তর্দ্বন্দ্বে আমি একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।”

তিনি আরো বলেন, “আমি কোনো নেপো বেবি নই। বলিউড সিনেমায় যে ধরনের বড় পরিসরের পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেখা যায়, সেই সুবিধা আমার ছিল না। এখানে বহু প্রজন্ম ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন অভিনেতারা আছেন, যারা সহজেই সুযোগ পান এবং বারবার কাজের সুযোগও পান—অন্যদিকে বাইরে থেকে আসাদের ক্ষেত্রে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন,” তিনি ওই পর্বে বলেন। “আপনার কোনো চাচা নেই যে আগের ছবিটি ব্যর্থ হওয়ার পরও শুধু আপনার জন্য নতুন সিনেমা বানিয়ে দেবেন। এখানে টিকে থাকতে হলে নিজেকেই লড়াই করে এগোতে হয়।”
বলিউড ছাড়া নিয়ে তিনি আর বলেন, “নিজের দেশে আমি যে ধরনের ছবিতে অভিনয় করতে চাইতাম, সেগুলোতে আমাকে কাস্ট করা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। তাই আমি এই সিদ্ধান্তটাই নিই—আর তারপর থেকেই সবকিছুর শুরু,”। এরপরেই তিনি বলিউড ছেড়ে হলিউডে পাড়ি জমান।


