সাবেক সাংসদ ও শিল্পী মমতাজ বেগম
সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে চলছে তদন্ত। চলমান এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মমতাজের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তার ঢাকা ও মানিকগঞ্জে অবস্থিত একাধিক স্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জব্দের তালিকায় রয়েছে চারটি বাড়ি, পূর্বাচলের একটি প্লট এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা জমি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
জানা গেছে, মমতাজের রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে অবস্থিত একটি পাঁচতলা ভবন, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় দুটি দোতলা বাড়ি এবং মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় একটি চারতলা বাড়ি জব্দ তালিকার অন্তর্ভূক্ত। এছাড়াও পূর্বাচলে ৯ কাঠা আয়তনের একটি প্লট জব্দের আওতায় এসেছে।

এ ছাড়া মানিকগঞ্জে ৫ শতাংশ জমি, সিংগাইরে ৭ শতাংশ জমি এবং সিংগাইরের অন্য একটি এলাকায় ৪১২ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি জব্দেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মানিকগঞ্জে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি দোতলা বাড়ি এই আদেশের বাইরে রাখা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মমতাজ বেগম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।
তদন্ত চলাকালে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রির আশঙ্কা থাকায় সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে জব্দের আবেদন করা হয়।
দুদকের পক্ষে আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পৈতৃক সম্পত্তি বাদে জব্দ হওয়া সম্পদের ঘোষিত মূল্য ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৪ টাকা।
গত বছর সরকার পতনের পরে আড়ালেই ছিলেন মমতাজ। এর পরের বছরের ১৩ মে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে তিনি হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় কারাবন্দি আছেন।
