‘মায়ের ডাক’ সিনেমা
দেশে ঘটে গেল এক বিরল ঘটনা। সাধারণত সিনেমার মহরতে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দেখা মেলা ভার। তাঁর উপর যদি প্রবীণ রাজনীতিবিদ হন সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো দুষ্প্রাপ্য। কিন্তু এবার সেই দুর্লভ মুহুর্তের সাক্ষী হল সিনেমা জগত। দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘মায়ের ডাক’ সিনেমার মহরতে উপস্থিত হলেন।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে অনুষ্ঠিত হয় ‘মায়ের ডাক’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘মায়ের ডাক’ সিনেমাটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অনুদানপ্রাপ্ত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন পরিচালক লাবিব নাজমুছ ছাকিব।
চলচ্চিত্রটি নিয়ে ছাকিব বলেন, “গুম হওয়া পরিবারের নারীদের সংগ্রাম, সংকট এবং যাপিত জীবন এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তু। যেটা রিফ্লেক্সিভ এবং পার্টিসিপেটরি মোডে ভিজ্যুয়ালি তুলে ধরা হবে।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যা বললেন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ‘মায়ের ডাক’-এর অনুষ্ঠানে এলে তাঁর পক্ষে আবেগ ধরে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
এ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,“আমি ‘মায়ের ডাক’-এর অনুষ্ঠানে এসে আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। যে বিষয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হচ্ছে এটা ভালো দিক। আমরা চাই, এর মাধ্যমে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের নারীদের সংগ্রাম, সংকটসহ সত্যিকার ইতিহাসটা উঠে আসুক।”
গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি নিজেও গুম ছিলাম। তথ্য মন্ত্রণালয় গুম নিয়ে চলচ্চিত্রে অনুদান করছে, এটা ভালো দিক।”

‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি, আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতরের প্রধান, গুম হওয়া পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন পেশাজীবী ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘মায়ের ডাক’ প্ল্যাটফর্ম
এই ‘মায়ের ডাক’ নামক প্ল্যাটফর্মটি একটি গুমবিরোধী প্লাটফর্ম যা বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে সরকারি সংস্থা কর্তৃক বলপূর্বক গুমের শিকার হয়েছে তাঁদের নিয়ে কাজ করে।

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যের পরিণতি জানার জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি চালু করে, যারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে নিখোঁজ হয়েছিল।


