এপস্টিন ফাইলের লাখ লাখ নথি নিয়ে আলোচনা
অভিনেত্রী জয়া আহসান সব সময়ই ভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবার নিজের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওসিডি’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জীবনের কিছু গভীর অনুভূতি ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয় সামনে এনেছেন। ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়া আহসান। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ নথির নিয়ে হচ্ছে আলোচনা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জয়া বলেন, শিশুদের ঘিরে কোনো কাজ করলে দায়িত্ব অনেক বেশি বেড়ে যায়। কারণ, শিশুদের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো খুবই সংবেদনশীল। তিনি জানান, অভিনয়কে নিখুঁত করার একটি অদ্ভুত চাপ সব সময় তার ভেতরে কাজ করে। নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি প্রায়ই ভাবেন, সব চরিত্র যেন এক রকম হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে নতুনভাবে ভাঙতে গিয়ে মাঝে মাঝে মানসিকভাবে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তখন নিজেকে বোঝান যে তিনিও একজন মানুষ, কিন্তু মন সহজে মানতে চায় না।
‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া এমন এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার ছিলেন। এই চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাকে পিডোফিলিয়া নিয়ে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। জয়ার মতে, শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি। দুঃখজনকভাবে বাংলা সিনেমায় এই বিষয়টি নিয়ে খুব কম কাজ হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টিন ফাইল’ জয়া বলেন, সাধারণ মানুষের চোখে শিশু মানেই মায়া ও স্নেহের অনুভূতি। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শিশুদের দেখলেই বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, যা স্পষ্টভাবে একটি অসুস্থ মানসিকতা।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জয়া আহসান। তিনি বলেন, সন্তান পেতে হলে জন্ম দেওয়াই একমাত্র পথ নয়। চাইলে দত্তক নেওয়াও সম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পরিবেশ। একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য আগে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অথচ বর্তমানে মানুষ নিজের জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।