ইকরার দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে নেই আলভী
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী জাহের আলভী ও তার সহ-অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর পল্লবী থানায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। রোববার বিকেলে জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরে, ময়মনসিংহের ভালুকায় রানদিয়া গ্রামে তার নানাবাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর শেষ বিদায়েও উপস্থিত ছিলেন না তার স্বামী জাহের আলভী। নেপাল থেকে আলভীর ফিরে আসার অপেক্ষায়ই বিকেল ৫টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দাফন সম্পন্ন হয়ে গেলেও তিনি দেশে পৌঁছাতে পারেননি।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, মামলায় শুধু আলভী ও তিথি নন, আলভীর পরিবারের আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আলভীর মাকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষে যদি আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ফেসবুক পেজ হাওয়া, প্রশ্নের মুখে আলভী-তিথি
ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল, তখনই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আলভীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ। প্রায় ২৪ লাখ অনুসারীর পেজটি বর্তমানে অদৃশ্য।
একই সঙ্গে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির ৩ লাখ ২৪ হাজার অনুসারীর ফেসবুক পেজও ডিজঅ্যাবল দেখাচ্ছে। হঠাৎ করে দুই তারকার পেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

স্বামীর সম্পর্ক মানতে পারেননি ইকরা
ইকরার স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইকরা মানসিক চাপে ছিলেন। পারিবারিক কলহ ও কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। ইকরার বাবা কবির হায়াত খান গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়ের বিয়ে শুরু থেকেই সহজ ছিল না। তিনি নাকি এই বিয়েতে সম্মত ছিলেন না। পরে পরিস্থিতি মেনে নেন। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। তার অভিযোগ, স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ইকরা।

মানসিক চাপেই ইকরা ভেঙে পড়েন
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ সময় পর তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শোবিজ অঙ্গনে কিছুদিন ধরেই আলভী ও সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। ইকরার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী দাবি করেছেন, এই সম্পর্কের কারণেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

সব বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্তে নেমেছে পুলিশ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে ইকরার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।