জাহের আলভীর ও ইকরা
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে জানা গেলেও, মৃত্যুর পর থেকেই নানা প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে। এদিকে, এফডিসিতে জাহের আলভীর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
ইকরার মা রেবেকা সুলতানা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জাহের আলভীর সঙ্গে এক অভিনয়শিল্পী সহকর্মীর কথিত প্রেমের সম্পর্কের জেরেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ইকরা। বন্ধুমহলের কয়েকজনও একই দাবি তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা।

ছবি | সংগৃহিত
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জাহের আলভী ও আলোচনায় আসা ওই অভিনেত্রীর বিচার দাবিতে ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম মানববন্ধন করেছে। আজ বুধবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) ফটকের সামনের মানববন্ধনে ইকরার কয়েকজন বান্ধবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সেখানে উপস্থিতরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর ইকরা’ (ইকরা হত্যার বিচার চাই) স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তদের বয়কটের আহ্বান জানান।
জাহের আলভীর নতুন পোস্ট নিয়ে বিতর্ক
এদিকে জাহের আলভীর একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রয়াত স্ত্রীকে উদ্দেশ করে দেওয়া আবেগঘন সেই লেখায় তিনি লিখেছেন, ‘ইকলি, তোকে একটা প্রশ্ন করি? কোন একদিন তোর কাছে এসে উত্তরটা শুনে নিব! আচ্ছা, আজকে তোর জায়গায় যদি আমি চলে যেতাম, তখনো কি সমগ্র পৃথিবী তোর বিরুদ্ধে চলে যেত! তোকে টেনে হিচড়ে নীচে নামানোর চেষ্টা করত? তখনো কি সবাই আমাদের রিজিককে নিয়ে মায়া কান্না করত? এতই যদি রিযিকের জন্য ওদের মায়া কাজ করত, তাহলে ওরাও কি পারত এভাবে ওর ভবিষ্যতের কথা না ভেবে তোকে নোংরাভাবে এক্সপোজ করতে? নাকি ভাবত, ছেলেটা বড় হয়ে এসব দেখলে মেন্টালি আনস্ট্যাবল হয়ে যাবে। তখনো কি আমার বন্ধুরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিথ্যে বলে সাধারণ মানুষের মাঝে তোকে খারাপের চেয়ে খারাপ বানাত?’
পোস্টের আরেক অংশে তিনি লেখেন, ‘খুব শিগগিরই তোর সাথে কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় বসে, গল্প করতে করতে শুনে নিব তোর কাছ থেকে। শুনব কেমন লাগছিলো তোর, আমার আগে চলে এসে এই মিথ্যে জগতের লীলা খেলা! তৃপ্তি পেয়েছিলি খুব? রাগ করব, অভিমান করব, আবার তুই সরি বলবি, আমি জড়িয়ে ধরে ইটস ওকে বলব। সন্ধ্যা হয়ে আসবে, আবার দুইজন হারিয়ে যাব।’
ইকরাকে ‘ইকলি’ নামে ডাকতেন আলভী—সেই নাম উল্লেখ করেই পোস্টটি দেন তিনি। তবে প্রকাশের পরই মন্তব্যের ঘরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে ‘আবেগের আড়ালে দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেন। সমালোচনা বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে পোস্টের মন্তব্য বন্ধ করে দেন আলভী।
তবু বিতর্ক থামেনি। পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার বলছেন—শোক প্রকাশের অধিকার সবারই আছে। ঘটনার তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই এখন সবার নজর।


