ফরিদা পারভীনের জন্মদিন
মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় প্রয়াত লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের ৭১ তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর এটি প্রথম জন্মদিন পালন। ফরিদা পারভীনের নিজ প্রতিষ্ঠান ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’ এই আয়োজনটি করে। সেখানে ফরিদা পারভীনের স্মৃতিচারণায় সাবিনা ইয়াসমিন তুলে ধরেছেন তার ব্যক্তিগত এক স্মৃতিময় মুহুর্ত।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফরিদা পারভীনের স্বামী ও নন্দিত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে বিশেষ এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। বিশেষ এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ।
গত ৩১ ডিসেম্বর ছিলো ফরিদা পারভীনের ৭১তম জন্মদিন। সেদিনই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোক পালনের কারণে তা স্থগিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় গতকাল মঙ্গলবার।

ফরিদা পারভীনের স্মৃতিচারণায় সাবিনা ইয়াসমিন যা বললেন
এই জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের আরেক কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় ফরিদা পারভীনকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা করেন তিনি। এ সময় সাবিনা বলেন, “আমি একবার দুইটি লালন গীতি শেখার জন্য ফরিদা পারভীনের বাসায় গিয়েছিলাম। আমাকে এত যত্ন করে গান শেখাল মনে হলো যেন আমি একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে। বাচ্চাদেরকে যেভাবে শেখাতেন ঠিক সেভাবে যত্ন করে সুন্দরভাবে আমাকে লালনগীতি শেখালেন। সেই স্মৃতি কখনোই ভুলব না।‘
তিনি আরো বলেন, ‘তিনি শুধু লালন গীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আধুনিক গান, নজরুল গীতি, দেশের গান গেয়েছেন। ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা’ গানের কথা তো কোনোদিন ভুলব না, কেউই ভুলবে না।”

সাবিনা ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘ফরিদা কত বড় শিল্পী ছিলেন আমরা প্রত্যেকেই জানি। স্মৃতিচারণার শেষে ফরিদা পারভীনের জন্য দোয়া করেন তিনি।
ফরিদা পারভীনের সংগীত জীবন
ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৪ বছর বয়সেই পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে আবির্ভূত হন এই লালন সম্রাজ্ঞী। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী হন ফরিদা পারভীন। শুরুতে তিনি ছিলেন নজরুল সংগীত শিল্পী, পরে দেশাত্মবোধক গান এবং লালন সংগীতে আসেন তিনি। সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনসংগীতের তালিম নিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন ফরিদা পারভীন। এছাড়া সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। আন্তর্জাতিক পরিসরেও তিনি সম্মানিত হন। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে তিনি লাভ করেন ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার।
গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে কিডনি জটিলতা ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহান শিল্পী।
