শিল্পীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা
বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের শিল্পীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হওয়ায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ। এই পরিস্থিতির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তিনি সোমবার (১৭ নভেম্বর) তার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শিল্পীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ চেয়েছেন ডিপজল।

এর আগে রোববার (১৬ নভেম্বর) অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ১৯ বছর বয়সি ভাই আদালতে হাজির হয়ে একটি মামলায় জামিন নেন। মেহজাবীন জানান, গত মার্চে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও গত নয় মাসে তিনি মামলার কোনো নোটিশ বা তথ্য পাননি। বাদী পুলিশকে তার সঠিক ফোন নম্বর, ঠিকানা কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনো প্রমাণই দিতে পারেননি। এ কারণে অনেকেই মনে করছেন, মামলাটি মূলত তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
ডিপজল ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে মামলা
শিল্পীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি ঢাকার সিএমএম আদালতে এক নারীর স্বামী ডিপজল ও তার সহকারী ফয়সালের বিরুদ্ধে ‘হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগ এনে মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ জুলাই ওই নারী মারধর ও অ্যাসিড হামলার শিকার হন।
তবে ডিপজলের পরিবার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, উল্লিখিত সময় ডিপজল চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও চোখের সমস্যাসহ নানা অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন। পরিবারের অভিযোগ, ওই নারীর পরিবার একের পর এক মামলা করে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করছে। এতে ডিপজলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দু’টোকেই বিপর্যস্ত করছে।

ডিপজলের পরিবারের মতে, একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে এমন বিরামহীন মামলা শুধু ব্যক্তিকে নয় বরং পুরো শিল্পী সমাজকে আতঙ্কে ফেলে দিচ্ছে। তাদের আহ্বান ভিত্তিহীন অভিযোগে যে কোনো শিল্পীকে টার্গেট করে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের বন্ধ করা জরুরি।
শিল্পীদের নামে মামলা দেয়া নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও দেশের বেশ কয়েকজন শিল্পী একই ধরনের জটিলতা ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিনেত্রী তানজিন তিশা, ভাবনা, অপু বিশ্বাস, নুসরাত ফারিয়াসহ আরও অনেকে নামে নানা সময়ে মামলা হয়েছে। এসবের পরেই ডিপজল মামলা নিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।