অরিজিৎ সিং
হঠাৎ করেই সিনেমার গানকে বিদায় জানালেন অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানান, সিনেমার কোন গানে তাকে আর পাওয়া যাবে না। সবাই এর যথাযথ কারণ খুঁজছেন। কেন তিনি অবসর নিলেন। অবশেষে প্লেব্যাক ছাড়ার কারণ জানালেন অরিজিৎ সিং ।
বিদায় ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অরিজিৎ সিংকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। সবার মনেই ঘুরেফিরে একটাই প্রশ্ন। কি এমন ঘটে গেল যার কারণে সিনেমার গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন অরিজিত?

অরিজিতের কয়েক দিন আগেই সালমান খান অভিনীত ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ সিনেমার ‘মাতৃভূমি’ গান প্রকাশিত হয়েছে। শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গে গানটি গেয়েছেন তিনি।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্লেব্যাক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তটা আচমকা নিয়েছেন কিনা? তবে অরিজিৎ সিংয়ের ঘনিষ্টজনেরা বলছেন, সিদ্ধান্তটা খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না।
এর মধ্যে অরিজিৎ সিংয়ের ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট বলে দাবি করা স্ক্রিনশটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্লেব্যাক ছাড়ার কারণ জানালেন অরিজিৎ
সেই পোস্টে প্লেব্যাক গান থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন অরিজিৎ সিং। তিনি লেখেন, ‘এর পেছনে একটিমাত্র কারণ নেই, একাধিক কারণ রয়েছে। অনেক দিন ধরেই আমি এটা করার চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে সাহসটা পেলাম। কারণগুলোর একটি খুবই সহজ—আমি খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাই। তাই একই গান মঞ্চে পরিবেশনের সময় বারবার অ্যারেঞ্জমেন্ট বদলাই। সোজা কথায়, আমি বিরক্ত হয়ে গেছি।’

গতকাল রাতে এক ফেসবুক পোস্টে অরিজিৎ সিং লিখেছেন, ‘হ্যালো, সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই আমি এটি বন্ধ করছি। গোটা যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।’
পোস্টে আরও লেখেন, ‘ঈশ্বরের অসীম কৃপা ছিল আমার ওপর। আমি ভালো সংগীতের একজন অনুরাগী। ভবিষ্যতে আরও শিখব, একজন সামান্য শিল্পী হিসেবেই সংগীতসাধনা চালিয়ে যাব। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’
২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়েলিটি শোতে অংশ নেন তিনি। সেখানে সেরা পাঁচে জায়গা পাননি তিনি। ষষ্ঠ হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। পরে আরেকটি সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজরে আসেন।
২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘সাওয়ারিয়া’ ছবির জন্য ‘ইউ শবনামি’ গানটি রেকর্ড করলেও সেটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়নি। ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’-এর ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে সিনেমায় প্লেব্যাক অভিষেক ঘটে অরিজিতের।
২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’-এর ‘তুম হি হো’ গানটি তাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। উঠে যান তারকাখ্যাতির চূড়ায়। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন শ্রোতাদের পাহাড়সম ভালোবাসা। তবে সব কিছুকে পেছনে ফেলে সিনেমার গান থেকে অবসরে যাচ্ছেন এই তারকা শিল্পী।


