স্থপতি রফিক আজম
আগামী ২৬ মার্চ স্থপতি রফিক আজমের স্থাপত্যকর্ম নিয়ে সিডনিতে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সিডনি অপেরা হাউসের উটজন হলে এটি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে এ বিশ্বমঞ্চেই আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘রিজোলি নিউইয়র্ক’ এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মারিয়া রোজা ফাল্ভো সম্পাদিত রফিক আজমের নতুন শিল্প-স্মারকগ্রন্থ রফিক আজম: ওল্ড ঢাকা নিউ স্টোরি-আর্কিটেকচার ইন বাংলাদেশ”-এর বিশ্ব উন্মোচন হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘আলো ও মাটির মাঝে’-এর (‘বিটুইন লাইট অ্যান্ড আর্থ’) বিশ্ব প্রিমিয়ার। রফিক আজমের জীবন ও কাজ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি বিষয়ে শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, ‘রফিক আজমের স্থাপত্য ভাবনা ও প্রকৃতির সঙ্গে তার যে নিবিড় সংযোগ, তাকেই ক্যামেরার ভাষায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। তথ্যচিত্র ও কল্পকাহিনির মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে আলো, জল এবং খোলা জায়গা বারবার ফিরে আসে। একই সঙ্গে এখানে প্রতিধ্বনিত হয় বাংলার আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী ঐতিহ্য। বিশেষ করে লালন শাহ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন এই যাত্রাকে নীরবে প্রভাবিত করেছে।’
আয়োজনটির বৈশ্বিক সমন্বয়ক অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্থপতি ও উপস্থাপক ফরহাদুর রেজা উদ্যোগটির বিষয়ে বলেন, রফিক আজম ও নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্তর সৃজনশীল মেলবন্ধনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারা আমাদের জন্য এক বিশেষ প্রাপ্তি। আমরা সিডনি থেকে এই যাত্রা শুরু করলাম। পর্যায়ক্রমে টোকিওসহ বিশ্বের বড় শহরগুলোতে এ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করছি। সিডনি অপেরা হাউসের মতো স্থাপত্যশৈলীর শ্রেষ্ঠ আঙিনায় আমাদের দেশের স্থাপত্যকলা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হওয়া সত্যিই এক অনন্য মুহূর্ত।’
অনুষ্ঠানের সিডনি সমন্বয়ক স্থপতি ইফতেখার আবদুল্লাহ জানান, প্রদর্শনী ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ববরেণ্য স্থপতিদের আলোচনা ও রফিক আজমের বিশেষ উপস্থাপনা থাকবে। এতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা অংশ নেবেন। এ ছাড়া অপেরা হাউসের মূল অনুষ্ঠানের আগে রফিক আজম ২৪ মার্চ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৫ মার্চ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করবেন।

স্থপতি রফিক আজমের জন্ম ও পুরস্কার
রফিক আজম ১৯৬৩ সালে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার লালবাগ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল, আগা খান অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্টসের পক্ষ থেকে রবার্ট ম্যাথিউ আজীবন সম্মাননা পদকসহ বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
এছাড়াও, ২০১২ সালে তিনি স্থাপত্যশিল্পে অবদান রাখার জন্য সম্মানজনক ‘লিডিং ইউরোপিয়ান আর্কিটেক্ট ফোরাম’ পুরস্কার লাভ করেন।


