চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ
চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি ছিলেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সিনেমা প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন বার্ধ্যক্য জনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অবশেষে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুকে বরণ করেছেন তিনি। খোরশেদ আলম খসরু তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আব্দুল লতিফ বাচ্চু চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা চলচ্চিত্রের একজন অভিবাবককে হারালাম। তিনি পরিচালক হিসেবে অনেক ছবি পরিচালনা করেছেন। “যাদুর বাঁশী”, “নতুন বউ”, “স্বামীর ঘর”সহ বেশ কয়েকটি যৌথ প্রযোজনার ছবিও পরিচালনা করেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’

নির্মাতা আবদুল লতিফচলচ্চিত্র ও নাটক জগতে তার অবদানের জন্য বহুবার প্রশংসিত হয়েছিলেন। সরকারি সেন্সর বোর্ড ও জুরি বোর্ডেও তিনি সততা এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনে বহুবার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে বাচ্চুর ক্যারিয়ার শুরু হয়। তিনি কাজ করেছেন ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’ ও ‘দর্পচূর্ণ’ সিনেমায়। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমার মাধ্যমে একক ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।
স্বাধীনতার পর ‘অবুঝ মন’ সিনেমায় তিনি চিত্রা জহির ও কাজী জহিরের সঙ্গে কাজ করেছেন।
পরিচালক হিসেবে তিনি উজ্জ্বলতার সাক্ষর রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বলবান’, ‘যাদুর বাঁশি’ (বাচসাস), ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’ ও ‘প্রতারক’। ক্যারিয়ারের নানা অর্জনের মধ্যে তিনি বাচসাস ছাড়াও ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের এক প্রাজ্ঞ শিল্পী ও বিচক্ষণ পরিচালক হিসেবে আবদুল লতিফ বাচ্চুর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।