ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর ৩০তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় নায়ক।
তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করেছেন সহকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর জনপ্রিয় পর্দাসঙ্গী শাবনূর। প্রিয় সহশিল্পীর স্মৃতিচারণ করে তিনি জানিয়েছেন, এত বছর পরও তাঁর চলে যাওয়াকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’ এরপর তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি এবং দর্শকের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সালমান শাহকে পর্দার ‘প্রিয় রাজপুত্র’ ও মানুষের ভালোবাসার ‘স্বপ্নের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন শাবনূর। তাঁর ভাষায়, সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি হৃদয়ে অমলিন। প্রজন্ম বদলেছে, সময় বদলেছে; কিন্তু দর্শকের ভালোবাসায় সালমান শাহ এখনো আগের মতোই জীবন্ত।
প্রয়াত এই নায়কের অকাল চলে যাওয়ায় চলচ্চিত্র অঙ্গনে তৈরি হওয়া শূন্যতার কথাও স্মরণ করেন শাবনূর। তাঁর বিশ্বাস, তিনি এমন একজন শিল্পী, যাঁর অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের মায়া সময়ের সঙ্গে মুছে যাওয়ার নয়।
৩০তম প্রয়াণ দিবসে প্রিয় সহশিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শাবনূর লেখেন, ‘যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসী করুন।’

সালমানকে ভুলে থাকা সম্ভব নয়: মৌসুমী
সালমান শাহকে স্মরণ করেছেন তাঁর আরেক সহশিল্পী ও বন্ধু মৌসুমীও। মৃত্যুর দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিন দশক পরও সেই সংবাদ বিশ্বাস করতে না পারার কষ্টের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মৌসুমী বলেন, ৩০ বছর আগে এমন একটি সংবাদ শুনতে হয়েছিল, যা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি আর নেই। প্রিয় বন্ধুকে হারানোর সেই শোক বুকে নিয়েই সেদিন তাঁকে বিদায় জানাতে হয়েছিল।
সময় এগিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি মলিন হয়নি বলে মনে করেন মৌসুমী। তাঁর ভাষায়, ‘সালমান শাহকে ভুলে থাকা আসলে সম্ভব নয়।’
মাত্র কয়েক বছরের অভিনয়জীবনেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে যে প্রভাব তৈরি করেছিলেন, সেটিকে বিস্ময়কর মনে করেন মৌসুমী। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও নিজস্ব স্টাইল দিয়ে খুব অল্প সময়েই তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

তিনি আকস্মিক মৃত্যু নিয়েও আজও প্রশ্ন জাগে মৌসুমীর মনে। তিনি বলেন, জীবনের ও ক্যারিয়ারের এত উজ্জ্বল সময়ে কেন সালমান সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনো পাওয়া যাবে না।
তবে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিগুলো মনে করতেই বেশি ভালো লাগে তাঁর। মৌসুমী বলেন, কল্পনার ভেতর এখনো সালমানের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। নিজের জায়গায় সালমান ছিলেন অনন্য।
মৌসুমীর বিশ্বাস, চলচ্চিত্র যতদিন বেঁচে থাকবে, দর্শকের ভালোবাসায় ততদিন বেঁচে থাকবেন তিনিও।
পুরোনো ছবিতে স্মরণ ওমর সানির
তাঁর ৩০তম প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করেছেন নব্বই দশকের আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি।

ছবিটিকে ‘বেস্ট অব ৯০’ উল্লেখ করে ওমর সানি লিখেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে নায়ক নাঈম, ক্যামেরাম্যান জেড এইচ মিন্টু, আমিন খান ও ওমর সানিকে।
তিন দশক পরও তাঁকে ঘিরে সহকর্মী ও দর্শকের এই আবেগই প্রমাণ করে, সময়ের সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয়তা মুছে যায়নি। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রযাত্রা হলেও অভিনয়, পোশাক, ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে তিনি যে অবস্থান তৈরি করেছিলেন, সেটি এখনো অটুট।
তাঁর ৩০তম প্রয়াণ দিবসে তাই ফিরে আসছে তাঁর সিনেমা, গান, অভিনয় আর অসংখ্য স্মৃতি। পর্দা থেকে বিদায় নিয়েছেন তিন দশক আগে, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা থেকে আজও বিদায় নেননি এই ‘স্বপ্নের নায়ক’।







