রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শতাধিক শিশু-কিশোর শিল্পী গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের লক্ষ্য ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
শিশু-কিশোর সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশন
অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫০ জন শিশু-কিশোর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করে ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য’ ও ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’। এরপর ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি’ গানের সঙ্গে ৫০ জন খুদে শিল্পী সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে।
পর্যায়ক্রমে মঞ্চে নজরুল সংগীত, একক আবৃত্তি ও সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীরাও অংশ নেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নৃত্য পরিবেশন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা ‘বনের হরিণ আয়’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের দল ‘তপস্যা’ উপস্থাপন করে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার থেকে শিশুদের দূরে রাখতে নজরুল চর্চার বিকল্প নেই। শিশুদের বেশি করে নজরুলের গান ও কবিতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

নজরুল চর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, তারা এমন একটি নিরাপদ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে। তাঁর মতে, নজরুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত শিশুরাই ভবিষ্যতে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশনা করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিল্পীদল। এছাড়া অংশ নেয় ‘স্পন্দন’, ‘রিদম ডান্স সেন্টার’ ও ‘সুপ্তোথিটা’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
শতাধিক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’ আয়োজনটি নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।



