Monday, October 12, 2026

রঙিন সুরমা: আফজাল-মিমির বাঁচার আকুতি

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

কেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন আমির খান?

September 26, 2026

সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোর অবিশ্বাস্য গল্প 

September 17, 2026

শত শত কোটি বাজেট, তবুও ভয়াবহ ফ্লপ!

September 10, 2026

শাকিব খানের উত্থানের গল্প

September 6, 2026

জীবনের সব গল্প তারুণ্যের নয়। কিছু গল্প শুরু হয় তখন, যখন বয়স অনেকটা পথ পেরিয়ে গেছে। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব বদলে গেছে। শরীরের সঙ্গে মনও ক্লান্ত। তবু মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটুকু থেকে যায়।  সত্য ও মিথ্যারদ্বন্দ্ব, বয়সের ভার, অসুস্থতা আর একাকীত্ব জীবনের এমন কঠিন বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘রঙিন সুরমা’। এতে দীর্ঘদিন পর প্রধান দুটি চরিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি।

‘রঙিন সুরমা’র গল্পের মূল ভিত্তি মুন্তাসির ও শাহিদা নামের দুটি চরিত্রকে ঘিরে। বয়স, সময়, অসুস্থতা, না-পাওয়া আর একাকীত্বের কারণে যাদের জীবন অনেকটাই ধূসর। তবে সেই ধূসর জীবনের বাস্তবতায় কিছু সত্য গোপন রেখে নিজেদের মত করে খানিকটা রঙিন মুহূর্ত তৈরি করে নেয় তারা।

রঙিন সুরমা: আফজাল-মিমির বাঁচার আকুতি
‘রঙিন সুরমা’র দৃশ্য, ছবি: সংগৃহীত

সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচায় না: নিমার্তা

নির্মাতা বলেন, ‘সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচায় না। কখনো কখনো একটি মিথ্যা মানুষকে তার প্রিয় মানুষটির পাশে থাকার সুযোগ দেয়, একটি সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে কিংবা জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতে সাহায্য করে। রঙিন সুরমা তাই আসলে একটি বৈপরীত্যের নাম। ধূসর জীবনের চোখে যে সামান্য রংটুকু এঁকে নেয় মানুষ, সেই রঙের নামই রঙিন সুরমা।’ গল্পটি পড়েই কাজটি করতে আগ্রহী হন আফসানা মিমি। তিনি বলেন, ‘(রিয়াজুল হক) ইমরান যখন চিত্রনাট্য পাঠালেন, প্রথমেই নামটা দৃষ্টি কেড়েছিল রঙিন সুরমা। স্বাভাবিক আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, শেষ করেছি চোখে জল নিয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটা হলো।’

চিত্রনাট্যেই আফসানা মিমির চোখে জল

আফসানা মিমির কাছে এই কাজের শুরুটা হয়েছিল চিত্রনাট্য পড়ার মধ্য দিয়ে। চিত্রনাট্য হাতে পেয়েই আলাদা করে নাড়া দিয়েছিল নামটি। এরপর গল্প পড়তে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর থেকেই কাজটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন আফসানা মিমি। তিনি বলেন, “চিত্রনাট্য পাঠানোর পর শুরুতেই ‘রঙিন সুরমা’ নামটি আমার দৃষ্টি কাড়ে। আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করে শেষ করি চোখে জল নিয়ে। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর কাজটি শেষ হওয়ায় এখন দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছি।

আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজের সুযোগকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন আফসানা মিমি। যাকে পর্দায় দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে একই ফ্রেমে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তার কাছে এখনও রোমাঞ্চের।

তবে কাজের জায়গায় সেই রোমাঞ্চকে অস্বস্তিতে পরিণত হতে দেননি আফজাল হোসেন। মিমি বলেন, তিনি কাজের পরিবেশকে সহজ করে দেন। ফলে সহশিল্পীর সঙ্গে দ্রুতই তৈরি হয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

দুই অভিনয়শিল্পীর এই অভিজ্ঞতার জায়গাটি রঙিন সুরমা’র অভিনয়েও কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, সেটি দেখার আগ্রহ থাকছেই।

রঙিন সুরমা: আফজাল-মিমির বাঁচার আকুতি
আফজাল হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনাট্য পড়েই রাজি হন আফজাল

অন্যদিকে আফজাল হোসেনের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগেনি। চিত্রনাট্য পড়েই গল্পটির ভিন্নতা তাকে টেনেছে। তার মতে, এখন দর্শককে আকৃষ্ট করতে যেখানে চমক ও উত্তেজনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে ‘রঙিন সুরমা’ খুব শান্তভাবেই দুই বয়স্ক মানুষের জীবনের সংকট তুলে ধরেছে।

এখানে বড় কোনো ঘটনার চেয়ে চরিত্রগুলোর বয়স, একাকীত্ব, সিদ্ধান্ত আর না বলা কথাই তৈরি করেছে গল্পের টান। আর এই জায়গাটিই আফজালের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।আফজাল হোসেনের আশা, এই আবেগ দর্শকের মন ছুঁয়ে যাবে।

মিথ্যাও কি কখনো আশ্রয় হতে পারে?

‘রঙিন সুরমা’ সত্য-মিথ্যার প্রচলিত ধারণাকে একটু অন্যভাবে দেখতে চেয়েছে। কারণ মানুষের সম্পর্ক সবসময় সাদা-কালোয় ভাগ করা যায় না। কোনো সত্য যেমন প্রিয় মানুষকে ভেঙে দিতে পারে, তেমনি একটি মিথ্যা কখনো হয়ে উঠতে পারে তার পাশে থাকার অজুহাত।

পরিচালক রিয়াজুল হক ইমরানের ভাবনায়, সব সত্য মানুষকে বাঁচায় না। কখনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেও সত্য আড়াল করতে হয়। রঙিন সুরমা তাই মিথ্যাকে সঠিক বা ভুল বলে রায় দেয় না। বরং দর্শকের সামনে রেখে যায় একটি প্রশ্ন কাউকে বাঁচিয়ে রাখতে বলা মিথ্যাও কি সবসময় ভুল?

নামেই লুকিয়ে গল্পের ইঙ্গিত

রঙিন সুরমা নামটি শুধু সুন্দর শোনানোর জন্য নয়, এর ভেতরেই গল্পের ভাবনা লুকিয়ে আছে। জীবন যখন ধূসর হয়ে আসে, তখন মানুষ নিজের মতো করে তাতে একটু রং মেশাতে চায়। সেই রং হয়তো খুব ছোট, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য কখনো সেটুকুই যথেষ্ট।

পরিচালক রিয়াজুল হক ইমরানের ভাবনায়, ধূসর জীবনের চোখে মানুষ যে সামান্য রঙটুকু নিজেই এঁকে নেয়, সেটিই রঙিন সুরমা।

১২ আগস্ট রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি

রিয়াজুল হক ইমরানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ওয়েব ফিল্মটি ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাত ১২টায় মুক্তি পাবে চরকিতে।  আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির মতো দুই অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী, জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মানুষের গল্প আর সত্য-মিথ্যার জটিল সম্পর্ক সব মিলিয়ে রঙিন সুরমা ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

Share

Read more

Local News