জন্মদিনে গাজী রাকায়েতের সম্মাননা
বাংলাদেশের নাটক, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির অঙ্গনের অন্যতম বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব গাজী রাকায়েত ১৫ জুন ৬০ বছরে পা দিচ্ছেন। এই বিশেষ মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে তার শুভানুধ্যায়ীরা আয়োজন করেছেন দুই দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে ১৫ ও ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন।
অভিনেতা, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক, একজন শিল্পীর ভেতরে এতগুলো পরিচয় ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন গাজী রাকায়েত। ১৯৬৬ সালে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী কৈশোর থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেন। স্কুলজীবনে নাটকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার অভিনয়যাত্রার সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি পড়াশোনার দিকেও সমান মনোযোগী ছিলেন।

তবে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অধ্যয়নকালে। সে সময় ব্যক্তিগত সংকট ও বিষণ্নতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি একটি নতুন পথের সন্ধান পান। অভিনয় শেখার জন্য অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হন। সেই সিদ্ধান্তই তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। এরপর থেকে অভিনয়, নাট্যচর্চা, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে গাজী রাকায়েত অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি নাটক লিখেছেন, মঞ্চনির্দেশনা দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তার কাজের পরিধি শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজ, মানুষ ও সমকালীন বাস্তবতাকে তিনি শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বারবার।
জন্মদিন উদযাপনে ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি আগ্রহী নন গাজী রাকায়েত। তবু তার সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুরোধে এবার বিশেষ এই আয়োজনকে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন, ১৫ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে তার নির্দেশিত জনপ্রিয় নাটক ‘নানা রঙের দিন’। বিশেষত্ব হলো, এটি নাটকটির ১০১তম প্রদর্শনী। প্রায় ৩০ বছর ধরে নাটকটি নিয়মিত মঞ্চস্থ হয়ে আসছে। একই দিনে প্রদর্শিত হবে গাজী রাকায়েত নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একটি লাশের গল্প’।

দ্বিতীয় দিন, ১৬ জুন দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হবে তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘মানুষটিকে দেখো’। চলতি বছরের ১ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে গাজী রাকায়েত বলেন, “আমি জন্মদিন উদযাপন করতে খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু এ বছর ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে বলে সবাই মিলে এই আয়োজন করেছে। তাই আর না করতে পারিনি। ‘নানা রঙের দিন’-এর ১০১তম প্রদর্শনী হবে, যা আমাদের জন্যও বিশেষ একটি মুহূর্ত।”
জীবনের এই পর্যায়ে পৌঁছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি ৬০ বছরে পৌঁছাতে পেরেছি। জীবনে অনেক মানুষ দেখেছি, অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। একজন শিল্পী হিসেবে সবসময় মানুষের আনন্দের জন্য এবং নিজের ভাবনা প্রকাশের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এই কাজ করে যেতে চাই।”
দুই দিনের এই আয়োজনে গাজী রাকায়েতের দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও অংশ নেবেন। তারা তার জীবন, কর্ম ও শিল্পসাধনার নানা স্মৃতি তুলে ধরবেন। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু জন্মদিন উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গাজী রাকায়েতের অবদানের এক বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হবে।