ডিসক্লোজার ডে
হলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচারণা চালিয়ে আসছেন যে মহাবিশ্বে মানুষের পাশাপাশি ভিনগ্রহের প্রাণেরও অস্তিত্ব থাকতে পারে। এ ব্যাপারটি নিয়ে তিনি বেশ শক্ত অবস্থানেই আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে। এ বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আবারো নির্মাণ করেছেন ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে সিনেমা ডিসক্লোজার ডে।
১৯৭৭ সালে স্পিলবার্গ নির্মাণ করেন ‘ক্লোজ এনকাউন্টার্স অব দ্য থার্ড কাইন্ড’ সিনেমা। এটি ইউএফও ও ভিনগ্রহবাসী বিষয়ক রহস্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমা। এরপর ১৯৮২ সালে মুক্তি পায় তাঁর আরেক সিনেমা ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’। এই সিনেমায় একটি শিশু ও এক বন্ধুসুলভ ভিনগ্রহবাসীর হৃদয়স্পর্শী বন্ধুত্বের গল্প তুলে ধরেছেন তিনি। মানে তাঁর পুরো মনোযোগের কেন্দ্র জুড়েই আছে এলিয়েন, ইউএফও তথা ভিনগ্রহবাসী।

সম্প্রতি তিনি আরেকটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন যার নাম ডিসক্লোজার ডে। সিনেমাটি ১২ জুন মুক্তি পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহ ও আইম্যাক্স এ।
সিক্যুয়েল নয়
ডিসক্লোজার ডে-এর ট্রেলার যখন প্রকাশিত হয় তখন ছবিটির বিষয়বস্তু ভিনগ্রহের প্রাণীদের ঘিরে জানার পরে, অনেকেই ধারণা করতে শুরু করেন যে এটি স্পিলবার্গের ১৯৭৭ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘ক্লোজ এনকাউন্টার্স অব দ্য থার্ড-এর সিক্যুয়েল। এই জল্পনা এতটাই ব্যাপক হয়ে ওঠে যে ছবিটির প্রেস নোটে মজার ছলে স্পষ্ট করে বলা হয়, “এটি ক্লোজ এনকাউন্টার্স-এর সিক্যুয়েল নয় (দুঃখিত, ইন্টারনেট)।”

তবে ছবিটির সঙ্গে ক্লোজ এনকাউন্টার্স এর সরাসরি কিছু সম্পর্ক রয়েছে। ডিসক্লোজার ডে -এর অন্যতম তারকা এমিলি ব্লান্ট ছবিটিকে ক্লোজ এনকাউন্টার্স এবং ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’ এর তৃতীয় ধারাবাহিক পরিণতি হিসেবেই বর্ণনা করেছেন।
স্পিলবার্গের ভাবনা
স্পিলবার্গ তাঁর একটি বক্তব্যে এই চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ভাবগত সংযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্পিলবার্গ বলেন, “আমি যখন ক্লোজ এনকাউন্টার্স নির্মাণ করেছিলাম, তার চেয়েও এখন আরো বেশি বিশ্বাস করি যে এই মহাবিশ্বে আমরাই একমাত্র বুদ্ধিমান সভ্যতা নই।”
অর্থাৎ, ডিসক্লোজার ডে সরাসরি কোনো সিক্যুয়েল না হলেও, এটি স্পিলবার্গের দীর্ঘদিনের ভিনগ্রহের প্রাণী, মহাজাগতিক রহস্য এবং মানবজাতির অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রধারার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নির্দেশে মার্কিন সরকার তাঁদের দীর্ঘদীনের গবেষণা ও ধারণকৃত বেশকিছু ভিডিও তথ্য প্রকাশ করে ইউএফও নিয়ে। যা থেকে এই নিয়ে আলোচনা আরো বিশ্বব্যাপী মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসে। তাঁর মধ্যেই স্পিলবার্গ নিয়ে আসলেন তাঁর সিনেমা ডিসক্লোজার ডে।
ডিসক্লোজার ডে-তে যা আছে
এই সিনেমার গল্পে এমন একটি পৃথিবী দেখানো হয়েছে, যেখানে মানবজাতি এক যুগান্তকারী সত্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এবং সেই তথ্য দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবহাওয়াবিদ মার্গারেট ফেয়ারচাইল্ড ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল কেলনার। তারা একটি দীর্ঘদিনের গোপন ষড়যন্ত্রের প্রমাণ খুঁজে পান এবং এরপর সরকার ও প্রভাবশালী করপোরেশনগুলোর নজরে পড়ে যান। ফলে সিনেমায় দেখা যাবে গবেষক ও লুকোচুরি খেলা সরকার ও প্রভাবশালী কর্পোরেশনের দ্বন্দ্ব।

এই চলচ্চিত্রের প্রধান অভিনেত্রী এমিলি ব্লান্টও বলেন, ”যদি আমরা জানতে পারি যে ভিনগ্রহের প্রাণ সত্যিই আছে, তাহলে মানুষ ভয় পাওয়ার বদলে বিস্মিত ও মুগ্ধ হবে বলেই আমি আশা করি।” তার মতে, “গাণিতিকভাবে ভাবলে আমরা মহাবিশ্বের একমাত্র সভ্যতা, এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন।”
এদিকে এই সিনেমার অভিনেতা কোলম্যান ডোমিঙ্গোও বিশ্বাস করেন যে পৃথিবীর বাইরে কোথাও না কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তার ভাষায়, আমরা যখন আকাশের তারার দিকে তাকাই, তখন মনে হয় কেউ হয়তো সেখান থেকেও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
স্পিলবার্গ হ্যাঁ বললেন
সবশেষে, আমাদের জীবদ্দশায় পৃথিবীর বাইরের প্রাণের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিলবার্গ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “হ্যাঁ। এবং তারা যাই হোক না কেন, আমি তা মেনে নেব।”
ফলে এখন দেখার পালা ডিসক্লোজার ডে তে ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব কতটুকু স্পষ্ট করে তুলতে পারেন স্টিভেন স্পিলবার্গ এবং একইসাথে ভিনগ্রহের প্রাণি নিয়ে মানুষের মধ্যে সামগ্রিক ভাবনায় কতটুকু আলোড়ন তুলতে পারে।


