জন লিথগোর ইতিহাস সৃষ্টি
বয়স যেন তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। ৮০ বছর বয়সেও অভিনয়ের জাদুতে দর্শক ও সমালোচকদের মুগ্ধ করে চলেছেন মার্কিন অভিনেতা জন লিথগো। এবার সেই মুগ্ধতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন মঞ্চনাটকের বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘টনি অ্যাওয়ার্ড’এর সেরা অভিনেতার পুরস্কার। আর এর মধ্য দিয়েই গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় টনি অ্যাওয়ার্ডসের ৭৯তম আসর। সেখানে ‘জায়ান্ট’ নাটকে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন জন লিথগো। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি টনি ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেরা অভিনেতার পুরস্কারজয়ী শিল্পী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল প্রয়াত ব্রিটিশ অভিনেতা রয় ডট্রাইস-এর দখলে। তিনি ২০০০ সালে ‘আ মুন ফর দ্য মিসবিগটেন’ নাটকের জন্য ৭৭ বছর বয়সে সেরা অভিনেতার টনি জিতেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে ৮০ বছর বয়সে নতুন ইতিহাস লিখলেন লিথগো।

তবে এটাই তার একমাত্র কীর্তি নয়। এবারের পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি অনন্য রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের জন্য প্রথম টনি পুরস্কার জিতেছিলেন ১৯৭৩ সালে। দীর্ঘ ৫৩ বছর পর আবারও একই বিভাগে পুরস্কার জয় করে সেরা অভিনেতার টনি অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যবধানের রেকর্ড গড়েছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
সব মিলিয়ে এটি জন লিথগোর তৃতীয় টনি অ্যাওয়ার্ড। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে সমান সফলতার সঙ্গে কাজ করে আসা এই অভিনেতার জন্য এবারের অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নাট্যবিশ্বের অনেকেই।
পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগঘন বক্তব্য দেন লিথগো। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান অভিনেতা মনে করি। এটি আমার তৃতীয় টনি অ্যাওয়ার্ড। প্রথমটি পেয়েছিলাম ৫৩ বছর আগে, যখন ব্রডওয়েতে আমার অভিষেক হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, সেই নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটারে, ঠিক যেমন ‘জায়ান্ট’-এর হয়েছিল। দুই প্রান্তে দুটি টনি আর মাঝখানে ৫৩ বছরের দীর্ঘ যাত্রা।”
তিনি আরও বলেন, “এই সময়ে আমি অসংখ্য অসাধারণ থিয়েটার শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি এবং মঞ্চে অসংখ্য আনন্দময় মুহূর্ত কাটিয়েছি। কিন্তু আজকের এই মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।”
এদিকে এবারের টনি অ্যাওয়ার্ডসে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। প্রযোজনাটি মোট ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে সেরা পুনরুজ্জীবিত নাটক বেস্ট রিভাইভাল অব আ প্লে বিভাগও।
অন্যদিকে, এ বছরের সেরা মঞ্চনাটকের পুরস্কার পেয়েছে ‘লিবারেশন’। আর সেরা মিউজিক্যাল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘স্মিগাডন’।
সব মিলিয়ে ৭৯তম টনি অ্যাওয়ার্ডস স্মরণীয় হয়ে থাকল জন লিথগোর রেকর্ডগড়া অর্জনের জন্য। বয়সকে জয় করে মঞ্চে নিজের শক্ত অবস্থান যে এখনো ধরে রেখেছেন, তারই আরেকটি উজ্জ্বল প্রমাণ দিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।