ভারতে যাচ্ছেন কাকলি
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলি স্ট্রোক-পরবর্তী জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে চলতি মাসের শেষের দিকে তাকে সেখানে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তার স্বামী ও অভিনেতা প্রণ রায় চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, কাকলিকে বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতাল বেঙ্গালুরু -এ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল ভিসাও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে চিকিৎসা চললেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। তাই উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রণ রায়ের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকের কারণে কাকলির শরীরের বাম পাশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। তিনি হাঁটতে পারেন না এবং দৈনন্দিন কাজেও অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। মিরপুরের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজডে (সিআরপিতে) দীর্ঘদিন থেরাপি নেওয়ার পর কিছুটা অগ্রগতি হলেও তার শারীরিক অবস্থাকে এখনো গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, “এখন তিনি সহায়তা নিয়ে কিছুক্ষণ বসতে পারেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। তবে হাঁটতে পারেন না, এমনকি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে।”
দম্পতির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ২০ জুনের মধ্যে তারা বেঙ্গালুরু রওনা হবেন। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসার ব্যয়। বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা এখন তাদের জন্য বড় চাপ।
প্রণ রায় বলেন, এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি চিকিৎসা কতদিন চলবে বা মোট খরচ কত হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত অর্থ নিয়েই যাত্রা করতে হবে বলে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় এতদিন চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ” কিছু সহায়তা দিলেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুকী রেজা সাগর।
শাহনেওয়াজ কাকলি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একজন প্রশংসিত নির্মাতা। তিনি ২০১২ সালে “উত্তরের সুর” দিয়ে তার পরিচালনা শুরু করেন, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয় এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে তিনি “From Bangladesh”সহ আরও কয়েকটি প্রকল্প পরিচালনা করেন, যার কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে।
চিকিৎসার এই কঠিন সময়েও পরিবার আশা করছে, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব হবে।