কোয়েলের রাজ্যসভা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়তে পারেন, এমন গুঞ্জনে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও বিনোদন অঙ্গন। শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তিনি দিল্লি গেছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলে তালিকায় স্থান পান কোয়েল মল্লিক। তার সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক রাজীব কুমার, সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। এরপর এপ্রিল মাসে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন অভিনেত্রী।

রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়ে আগে কখনও প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখাননি কোয়েল। ফলে তার রাজ্যসভায় মনোনয়ন অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় ছিল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ মহলের কেউ কেউ সে সময় মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্তটি হয়তো পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আসেনি।
শপথ গ্রহণের পর কোয়েল বলেছিলেন, দেশের সেবা ও মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য বড় সম্মানের বিষয়। তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন বলেও জানিয়েছিলেন। তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তার পদত্যাগের সম্ভাবনার খবর নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। কোয়েলের বিয়ে একটি পাঞ্জাবি পরিবারে হওয়ায় ভবানীপুরের পাঞ্জাবি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে নির্বাচনী ফলাফলে সেই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি বলে অনেকের মত।

এদিকে, কোয়েলের স্বামী নিসপাল সিং-এর ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণেও রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠজনেরা এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, কোয়েল বরাবরই নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করেছেন এবং কোনো সুবিধার জন্য রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করার মানুষ তিনি নন।
রাজনীতিতে প্রবেশের সময় কোয়েলের বাবা, বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক-ও মেয়ের বিচক্ষণতার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কোয়েল যথেষ্ট পরিণত এবং দায়িত্বশীল। সৎ পথে থেকে ভালো কাজ করুক, এটাই তার প্রত্যাশা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ভেতরে ভাঙনের আলোচনা চললেও কোয়েল কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেবেন না বলেই মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠরা। বরং তিনি সম্মানজনকভাবে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আবারও পুরোপুরি অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনেই মনোযোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোয়েল নিজে এখনো এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়ার খবরটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এখন সবাই অপেক্ষা করছেন অভিনেত্রীর বক্তব্যের জন্য, যা এই জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে।