লাক্স সুপারস্টার ২০২৫
লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর সেরার মুকুট জিতলেনমেহেবুব আলম ও মেরী ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র কন্যা বিদুষী বর্ণিতা। রাজশাহীতে জন্ম হলেও ঢাকাতেই বড় হয়েছেন এই লাক্স সুন্দরী। তাঁর বাবা রেডিও এবং দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর মাও ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সাথে জড়িত। কিভাবে বিদুষী বর্ণিতা হয়ে উঠলেন লাক্স সুপারস্টার? জেনে নেয়া যাক গল্পটি।

ছোটবেলায় বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতা ছোটবেলায় ছায়ানটে গান শিখেছেন। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে শিখেছেন নাচও। তবে এছাড়াও মা–বাবার উৎসাহে ছোট্ট বয়সেই শোবিজযাত্রা শুরু করেছিলেন বিদুষী। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ছয় কি সাত বছর বয়সে বর্ণিতা তাঁর বাবার রেডিও এবিসিতে চাকরির সূত্রে সেখানের জনপ্রিয় রেডিও শো তে জায়গা পান। সেখানে-‘কি শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’–এর বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তাঁর ভয়েস। এরপর বেশ কটি টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন তিনি। তখন থেকেই শোবিজে নিয়মিত কাজ করার আগ্রহ ছিলো বর্ণিতার। তবে তেমন সুযোগ তখন আসেনি। শুরুর সেই সময়টা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘অনেক লম্বা একটা সময়, প্রায় আট-নয় বছরের একটা গ্যাপ ছিল। সে সময় অনেক কাজ খুঁজেছি, কিন্তু তেমন সুযোগ পাইনি।’ নানা কারণে সেই সময় কাঙ্ক্ষিত সুযোগগুলো না আসায় তাঁর মনে অভিনয়ের প্রতি এক বিশাল ক্ষুধা জমে ছিল, কিছুটা আক্ষেপও ছিল। সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান।
শুরুতেই হাসপাতালের বিছানা
‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’- এ বর্ণিতার এই যাত্রা বেশ কঠিনই ছিলো। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন যখন শুরু হয়, তখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে গণমাধ্যমকে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। একপ্রকার হবে না ভেবেই রেজিস্ট্রেশনটা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই সময়ই কেন এটা হলো, অন্য সময় হলে হয়তো ভালো করতাম।’ কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি বর্ণিতা। সুস্থ হয়ে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা পান। সেখান থেকে দীর্ঘ যাত্রা শেষে সেরা দশে জায়গা পান বর্ণিতা। তবে নিজের রেজিস্ট্রেশনের কথা পরিবারকে জানানি বর্ণিতা। তিনি চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হওয়ার পরই চমক দিতে।

প্রথম না হওয়ার আক্ষেপ
গণমাধ্যমকে বর্ণিতা জানালেন তিনি কখনো কোথাও ‘প্রথম’ হতে পারেননি । এই নিয়ে বেশ বড় আক্ষেপ ছিল তাঁর। পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম হতে পারেননি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো প্রথম হয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন। বর্ণিতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনো কোচিং করিনি বা কোনো টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়িনি, বাসায় একা পড়তাম। কেন জানি এর প্রভাব আমার মার্কসে পড়ত, হয়তো ডিজার্ভ করতাম ফার্স্ট পজিশন কিন্তু হয়েছি সেকেন্ড (হাসি)।’ লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতা তাঁর এই আক্ষেপ মুছে দিয়েছে।
যাদের সান্নিধ্য পেয়েছেন

তাঁর এই পুরো জার্নিতে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন বর্ণিতা। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব বর্ণিতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘জয়া আহসান ম্যামের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে পারা বা ওনার কাছ থেকে একটা ছোট অ্যাডভাইস পাওয়া-এভাবে দাঁড়াবে, এভাবে কথা বলবে-এগুলো অনেক বড় ব্যাপার। এ ছাড়া মেহজাবীন ম্যাম ও রায়হান রাফী স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভিকি জাহেদ স্যার ও জাহিদ প্রীতম স্যারের প্রজেক্টে কাজ করাও জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। তা ছাড়া এই জার্নিতে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো বড়মাপের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।’
‘আমাদের মেয়েটা ভালো করছে’
বর্ণিতার কাছে বিজয়ের ট্রফিটি কেবল শোকেসে সাজিয়ে রাখার বস্তু নয়; এই ট্রফি তাঁর কাছে হাজারো মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। তাই এটিকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রফিটা শুধু আমার নয়; যতজন মানুষ নেপথ্যে পরিশ্রম করেছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি এখানে আসতে পেরেছি, সবার পরিশ্রমের ভারটা ওই ট্রফির ওপর আছে। এই ট্রফির সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে, “আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।”

যে সকল সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা
সেরার মুকুট ও গাড়ি ছাড়াও, নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। সঙ্গে থাকছে নির্মাতা শিহাব শাহীনের একটি ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এসব সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত বর্ণিতা। তিনি বলেন, ‘যখন জানলাম যে রাফী স্যার, শিহাব শাহীন স্যার দুজনের সঙ্গেই কাজের সুযোগ পাব, তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ওনারা দুজনই এখন দেশসেরা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার শুরুটা তাঁদের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে হচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’
জানা গেছে, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন বর্ণিতা। পড়ছেন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে। সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাবেন।
উত্তরাধিকারীদের প্রতি বার্তা
ভবিষ্যতে যাঁরা শোবিজ বা এমন প্রতিযোগিতায় আসতে চান, তাঁদের উদ্দেশে বর্ণিতার পরামর্শ খুব সহজ, ‘শুধু আমাকে দেখে বা অন্য কাউকে দেখে স্বপ্ন দেখতে হবে তা না, নিজেকে দেখে নিজের জন্য স্বপ্নটা দেখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে, সেই চেষ্টার দ্বারাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
চূড়ান্ত পর্বের পাঁচজন

‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছেন পাঁচজন প্রতিযোগী-আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। তিনি পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম, তিনি পেয়েছেন তিন লাখ টাকার চেক।


