ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট
এবার টোয়াইলাইট খ্যাত হলিউড অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট আমেরিকা ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বিদেশে কাজ করার এই পরিকল্পনার অন্যতম কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার শাসনামলে হলিউডের পরিবেশ বদলে গেছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ট্রাম্পের অধীনে সমাজ বাস্তবতা ভেঙে পড়ছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট জানান তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সিনেমা নির্মাণ করে তা আবার আমেরিকান দর্শকদের কাছেও পৌঁছে দিতে চান।
ক্রিস্টেন বলেন, ‘আমি হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারব না। সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে আমি আমেরিকান দর্শকদের জন্য সিনেমা বানানো ছাড়তে চাই না। ইউরোপে বানিয়ে সেগুলো আবার আমেরিকানদের কাছেই পৌঁছে দিতে চাই। ‘

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু ও লেখক লিডিয়া ইউকনাভিচের ২০১১ সালের আত্মজীবনীমূলক বই অবলম্বনে নির্মিত। সিনেমাটিতে শৈশবের নির্যাতন ও আসক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সিনেমাটির শুটিং করা হয়েছে লাটভিয়ায়।

ক্রিস্টেনের মতে, এই সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে বানানো প্রায় অসম্ভব ছিল। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন। তিনি এসব সিনেমাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলেও মন্তব্য করেন। এই প্রস্তাবকে “ভয়ংকর” বলে আখ্যা দিয়েছেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তাঁর মতে, এতে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিল্পীরা বিদেশে কাজ করতে বাধ্য হবেন।
ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট আমেরিকা ছাড়ার পেছনের রহস্য
তবে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধের একটি ইতিহাস রয়েছে। স্টুয়ার্ট ও ট্রাম্পের মধ্যকার এই বিরোধের সূত্রপাত প্রায় ১৪ বছর আগে, ২০১২ সালে। যখন এক প্রতারণা–কেলেঙ্কারির জেরে রবার্ট প্যাটিনসন অভিনেত্রীর ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানেন।

সেসময় ট্রাম্পের টুইট করে প্যাটিনসনকে পরামর্শ দেন স্টুয়ার্টকে “ছেড়ে দিতে”। এরপর থেকে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দু’পক্ষই প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্নভাবে একে অপরকে আক্রমণ করে আসছেন।
মাত্র গত বছরই স্টুয়ার্ট এই বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢালেন। তিনি ২০১২ সালের সেই টুইটগুলোকে “টার অ্যান্ড ফেদারিং” বলে আখ্যা দেন এবং ট্রাম্পকে “একটা ছোট বাচ্চা” বলে উল্লেখ করেন। তবে এই দীর্ঘদিনের বৈরিতায় সর্বশেষ যে মোড় এসেছে, তা খুব কম মানুষই আগে থেকে কল্পনা করেছিলেন।
আমেরিকা ছাড়লেন জেমস ক্যামেরন
তবে এছাড়াও সম্প্রতি খবর এসেছে টাইটানিক ও অ্যাভাটার নির্মাতা জেমস ক্যামেরনও আমেরিকা ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি কোথায় থাকতে চাইবেন? এমন একটি জায়গায়, যেখানে মানুষ বিজ্ঞান বিশ্বাস করে, মানসিকভাবে স্থিতিশীল ও একটি অভিন্ন লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে পারে? নাকি এমন একটি দেশে, যেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে, চরমভাবে বিভক্ত, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করছে আর আরেকটি মহামারি এলে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় পড়ে যাবে?’

এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মেরুকরণ, নৈরাজ্য ও বিজ্ঞানবিরোধী প্রবণতার দিক গুলো তুলে ধরেন তিনি। আর সেই নৈরাজ্য সমাজ ছাড়িয়ে সিনেমাতেও পড়েছে। সিনেমায় ট্যারিফ আরোপ করা যার অন্যতম ঘটনা। ফলে সব মিলিয়ে একে একে তারকারা পাড়ি জমাচ্ছেন অন্য দেশে। ছাড় ছেন আমেরিকা। তবে এখন প্রশ্ন আমেরিকার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কি খয়ে যাওয়ার পথে?


