গতকাল ২৫শে মার্চ রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাবার পর সন্জীদা খাতুনের মরদেহ রাখা হয় স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে।
রাতভর স্কয়ারে থাকার পর আজ ২৬শে মার্চ বেলা সাড়ে বারটায় ছায়ানটে আনা হয় সন্জীদা খাতুনের মরদেহ। শেষবারের মতো প্রিয় কর্মস্থলের আঙ্গিনায় তিনি। সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ করে দিতেই সন্জীদা খাতুনকে আনা হয়েছে তার প্রিয় কর্মস্থল ছায়ানটে।
সন্জীদা খাতুনের পুত্রবধূ এবং ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানায়, ছায়ানটের পর বেলা আড়াইটায় কফিন নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, সেখানে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে শেষ বিদায় জানাবে সর্বস্তরের মানুষ। উনার দাফন আজ হবে না। স্বজনরা দেশের বাহিরে। তারা ফিরলে তবে তাকে দাফন করা হবে বলে জানান লিসা।
সন্জীদা খাতুনের জন্ম ৪ এপ্রিল ১৯৩৩ সালে। ১৯৭১ সালে করেছেন সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। যুদ্ধের আগে রমনার বটমূলে ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের আয়োজনে করেছিলেন নববর্ষের প্রথম অনুষ্ঠান। সেখানে আয়োজকদের একজন ছিলেন তিনি। গেয়েছিলেন গান।
তার গবেষণা, সাহিত্য সমালোচনা, সমাজ-সংস্কৃতি, আত্মজীবনী মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা ২০–এর অধিক।
বরেণ্য এই শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পেয়েছেন রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার, বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম, টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য, ভারত সরকারের পদ্মশ্রী পুরস্কার।