সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ধর্মীয় এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এটি তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন।
পবিত্র কাবা শরিফের সামনে থেকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। ভিডিওতে কালো বোরখা পরা অবস্থায় তাঁকে কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে কেয়া পায়েল লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন।’ তাঁর এই বক্তব্যে ওমরাহ পালনের অভিজ্ঞতাকে জীবনের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নেতিবাচক মন্তব্য না করার আহ্বানও জানিয়েছেন কেয়া পায়েল। তিনি লিখেছেন, ‘কেউ বাজে মন্তব্য করে নিজের নিচু মানসিকতার পরিচয় দেবেন না। আপনার মন্তব্য আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারই পরিচয় বহন করে।’
মন্তব্যের শেষাংশে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘তাই অন্যকে ছোট করার আগে নিজের মানসিকতার দিকে একটু নজর দিন।’ তাঁর এই বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তা উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপনচিত্র থেকে নাটকে কেয়া পায়েলের যাত্রা
অভিনয়ে আসার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না কেয়া পায়েলের। শখের বশে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং দেখতে গিয়ে পরিচিত হন কয়েকজনের সঙ্গে। এরপর অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন। ২০১৮ সালে প্রথম নাটকে অভিনয় করেন তিনি। প্রথম নাটকেই প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন কেয়া।
শুরুর দিকে কাজের সংখ্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে অভিনয় নিয়ে তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে কেয়া জানিয়েছিলেন, এখন আর শুধু নাটকের সংখ্যা বাড়াতে চান না। বরং গল্প ও চরিত্র বুঝে কাজ বেছে নিতে চান। তাঁর মতে, দর্শকের পছন্দের কাজ করার পাশাপাশি নিজের অভিনয়েও সন্তুষ্টি থাকা জরুরি।

প্রায় ৪০০ নাটকে অভিনয়, শতাধিক নাটকে কোটি ভিউ
ছোট পর্দায় কেয়া পায়েলের জনপ্রিয়তার বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছে রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। মুশফিক আর ফারহান, তৌসিফ মাহবুব ও জোভানের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। ‘শুধু তোমার জন্য’, ‘চেয়েছি তোমার হতে’, ‘বন্ধন’, ‘বাস ট্রিপ’, ‘মায়াবী’ ও ‘সুন্দরী’ তাঁর অভিনীত আলোচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কেয়া পায়েল জানিয়েছিলেন, তত দিনে তাঁর অভিনীত প্রায় ৪০০ নাটক প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০২টি নাটক ইউটিউবে এক কোটি বা তার বেশি ভিউ পেয়েছে। নিজের এই সাফল্যকে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই অর্জনের কৃতিত্ব সহশিল্পী, নির্মাতা ও দর্শকদেরও দিয়েছেন তিনি।
তবে সংখ্যার বাইরেও চরিত্রে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছেন কেয়া। ‘মাধবীলতা’ নাটকে কথা বলতে না পারা একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রশিক্ষকের সহায়তা নিয়েছিলেন। আবার ‘সুন্দরী’ নাটকে চরিত্রের প্রয়োজনে বদলাতে হয়েছিল তাঁর সাজসজ্জা ও বয়সের প্রকাশ। এসব কাজের মধ্য দিয়ে প্রচলিত রোমান্টিক চরিত্রের বাইরে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ব্যবসা
কেয়া পায়েলের ব্যক্তিজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর পড়াশোনা। অভিনয়ের ব্যস্ততার পাশাপাশি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আইনে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। আদালতে আইন পেশায় অনুশীলন শুরু করার ইচ্ছাও ছিল তাঁর, যদিও নাটকের শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে তখনো সেই সুযোগ হয়ে ওঠেনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন কেয়া। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনি ‘পার্ল বাই পায়েল মেকওভার অ্যান্ড স্যালন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে অভিনয়ের কাজ কিছুটা কমিয়ে অন্য কাজেও মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে অবশ্য বরাবরই সতর্ক কেয়া পায়েল। বিয়ে নিয়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিয়ে করলে সবাইকে জানিয়েই করবেন। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মানকে গুরুত্ব দেন তিনি। যে পরিবারে বিয়ে হবে, সেই পরিবারের আপন হয়ে ওঠার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবন সামলে এগিয়ে চলেছেন কেয়া পায়েল। এবার ওমরাহ পালন করে জীবনের বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তিনি। কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ভিডিওর সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত ক্যাপশনটি ভক্তদের সামনে তুলে ধরেছে সেই মুহূর্তের গুরুত্ব। একই সঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শালীনতা বজায় রাখার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী কেয়া পায়েল।






