ছায়ানটের শরৎ উৎসবে গান, কবিতা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে বাংলার শরতের চিরচেনা সৌন্দর্য। কাশফুল ও রঙিন ঘুড়িতে সাজানো মঞ্চে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় বরণ করা হয়েছে ঋতুর এই রূপ। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা এবং প্রকৃতিবিনাশী কর্মকাণ্ড রোধের বার্তাও ছিল আয়োজনে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে ছায়ানট ও প্রতিষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘শরতের অনুষ্ঠান’। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া আয়োজনে অংশ নেয় নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, এক্সেল একাডেমি, সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

কাশফুলে সাজানো মঞ্চ আর প্রবেশপথে রঙিন ঘুড়ি পুরো আয়োজনকে দিয়েছিল শরতের আবহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন্ অতিথি’ গানের সঙ্গে সম্মেলক সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমবেত কণ্ঠের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অতুল প্রসাদ সেনের গান, কবিতা ও ছড়া।
নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গেয়ে শোনায় ‘আলোর অমল কমলখানি’ ও ‘শরৎ (আজি কি তোমার মধুর মুরতি)’। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃন্দ আবৃত্তিতে উঠে আসে সুনির্মল বসুর ‘সবার আমি ছাত্র’। এ পর্বে একক সংগীত পরিবেশন করেন মেহেরিন ফাতেমা ও সুদর্শনা অলকানন্দা কুণ্ডু।

এক্সেল একাডেমির শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে সম্মেলক গান ‘দেখো-দেখো, দেখো, শুকতারা আঁখি’। সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল ‘কোন্ খেপা শ্রাবণ ছুটে এল’। ছায়ানটের শিল্পী পার্থিব সাহা গেয়ে শোনান ‘শিউলি ফুল শিউলি ফুল’। ইজমির মুস্তাফিজের একক আবৃত্তিতে উঠে আসে ‘শরৎ (এসেছে শরৎ, হিমের পরশ)’। এ ছাড়া কাজী নজরুল ইসলামের ‘কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ’ কবিতাটি পরিবেশিত হয় বৃন্দ আবৃত্তিতে।
ছায়ানটের অঙ্কিতা সরকার পরিবেশন করেন ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’। সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা গেয়ে শোনায় ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’। এ প্রতিষ্ঠানের হয়ে একক সংগীত পরিবেশন করেন সার্থক সাহা, বাঁধন কুণ্ডু ও দিব্যময় দেশ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’। এ পর্বে একক সংগীত পরিবেশন করেন শতদ্রু সরকার ও প্রেমা দেওয়ানজী। পরে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যৌথ পরিবেশনায় ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ সম্মেলক নৃত্যগীত এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন।
শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানান ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশের প্রতিটি ঋতুর রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্য। বৃষ্টিহীন নীল আকাশ, মেঘের ভেলা, ফুটন্ত কাশবন ও শিউলি ফুলের সমাহারে শরতের যে স্বতন্ত্র রূপ, তা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ছায়ানট।

সারওয়ার আলীর ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনা এবং তাদের মাধ্যমে প্রকৃতির সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলমান প্রকৃতিবিনাশী কর্মকাণ্ড অনেকটাই প্রশমিত করা সম্ভব।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোর, শিক্ষক-অভিভাবক, শিল্পী ও দর্শকের উপস্থিতিতে মুখর ছিল অনুষ্ঠানস্থল। সরাসরি উপস্থিত থেকে আয়োজনটি উপভোগ করার পাশাপাশি ছায়ানটের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলেও অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার সুযোগ ছিল।






