বিয়ে নিয়ে তারকাদের ব্যক্তিগত ভাবনা জানতে আগ্রহের কমতি নেই ভক্তদের। সেই কৌতূহলই নতুন করে সামনে এসেছে অভিনেত্রী কেয়া পায়েল ও আরিফিন শুভকে ঘিরে। জুলাইয়ে দুজনের ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ পোস্ট দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, গোপনে বিয়ে করেছেন তাঁরা। পরে জানা যায়, বাস্তব জীবনের কোনো ঘোষণা নয়, এটি ছিল তাঁদের অভিনীত ওয়েব সিনেমার প্রচারণা।

৫ অক্টোবর রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সিভিক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ এর প্রিমিয়ার। সেখানেই বিয়ে নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান কেয়া পায়েল। পাশাপাশি সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেন আরিফিন শুভসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিয়ের পরের জীবনের গল্প
চরকি প্রযোজিত এবং ছবিয়ালের সহপ্রযোজনায় ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের গল্প ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত ওয়েব সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল।
সিনেমায় আনিস ও অনামিকার দাম্পত্য জীবন উঠে এসেছে। তাঁরা দুই প্রজন্মের মানুষ। বয়সের ব্যবধানের পাশাপাশি জীবনযাপন ও চিন্তাভাবনাতেও রয়েছে পার্থক্য।
আনিস কিছুটা পুরোনো ধ্যানধারণার। চাকরির বাইরে রান্নাবান্না ও গাছের পরিচর্যা নিয়েই তার ব্যস্ততা। অন্যদিকে অনামিকা চটপটে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং জীবনকে দেখেন ভিন্নভাবে। ফলে দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয়ে মতের অমিল তৈরি হয়।

বিয়ে নিয়ে যা বললেন কেয়া পায়েল
কেয়া পায়েলের ভাষায়, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ এ দর্শক তাঁকে ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন। বিয়ের পর একজন নারীর জীবনে আসা নানা অভিজ্ঞতা ও সংকটের গল্পই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিনেত্রীর আশা, সিনেমার গল্প দর্শকের ভালো লাগবে। বিয়ে নিয়ে ভাবনা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দুই মানুষের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়গুলো দর্শকের সঙ্গে সহজেই সংযোগ তৈরি করবে বলেও মনে করেন তিনি।
‘সুখে থাকার রেসিপি হ্যাপিলি ম্যারিড’
প্রিমিয়ারের পর সিনেমাটি নিয়ে নিজের মতো করে কথা বলেন আরিফিন শুভ। তাঁর মতে, যারা বিয়ে করেছেন এবং যারা ভবিষ্যতে বিয়ে করবেন, সবারই সিনেমাটি দেখা উচিত।
দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখী থাকা যায়, সেই ভাবনাও পাওয়া যাবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ। মজা করে শুভ বলেন, সুখে থাকার রেসিপিই হলো ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। এমনকি প্রতি শুক্রবার সিনেমাটি দেখার পরামর্শও দেন তিনি।
সিনেমায় ঘরের নানা কাজ করতে দেখা গেছে শুভকে। রয়েছে রান্নার দৃশ্যও। বাস্তবে কী রান্না করতে পারেন, জানতে চাইলে অভিনেতা জানান, ডিম সেদ্ধ, ডিম ভাজি, চা, কফি ও নুডলস তৈরি করতে পারেন। ভাত রান্না শেখার চেষ্টাও করছেন তিনি।

দুই প্রজন্মের সম্পর্কের টানাপোড়েন
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ প্রসঙ্গে নুসরাত ইমরোজ তিশা জানান, ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ এর ১২টি গল্পের একটি এই সিনেমা। পরিবারকে ঘিরে সময়োপযোগী ভালোবাসার গল্প বলা হয়েছে এতে। দুই প্রজন্মের মানুষের আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পর্কের পার্থক্যও উঠে এসেছে।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে এ ধরনের গল্প বলার প্রয়োজন রয়েছে। চারপাশের নানা ব্যস্ততা ও চিন্তার মধ্যে মানুষ অনেক সময় নিজের জীবন উপভোগ করতে ভুলে যায়। সেই জায়গা থেকে সিনেমাটি দর্শককে নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ দেবে বলে মনে করেন তিনি।
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ শুভ, কেয়া পায়েল ও তিশার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, আরেফিন জিলানী ও তুষার খান। ওয়েব সিনেমাটি ৭ অক্টোবর রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে।







