এমি মনোনয়নে এমিলি হেনরির সিনেমা ! ভ্রমণ, বন্ধুত্ব আর প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ মুক্তির পর নেটফ্লিক্সে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিনেমাটি ৪ কোটি ৫ লাখ ভিউ পেয়ে বৈশ্বিক সেরা ১০ ইংরেজি সিনেমার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। পরে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে সিনেমাটির মোট ভিউ ৭ কোটি ৭৭ লাখে পৌঁছে যায়।
মার্কিন লেখক এমিলি হেনরির ২০২১ সালে প্রকাশিত একই নামের বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’। এটি হেনরির কোনো উপন্যাসের প্রথম চলচ্চিত্র অভিযোজন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ব্রেট হ্যালি। পপি ও অ্যালেক্সের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি বাডার ও টম ব্লাইথ।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে পপি ও অ্যালেক্স। দুজনের স্বভাব একেবারেই ভিন্ন হলেও তাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ভিন্ন শহরে বসবাস করেও প্রায় এক দশক ধরে প্রতি গ্রীষ্মে তারা একসঙ্গে ছুটি কাটাতে ভ্রমণে যায়।

কিন্তু একসময় সেই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নতুন প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাদের সম্পর্ক কি শুধুই বন্ধুত্ব, নাকি এর আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো অনুভূতি এই প্রশ্নই গল্পকে এগিয়ে নেয়। নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে পপি ও অ্যালেক্সের জীবনে আসে পরিবর্তন।
২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই এটি নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিনেমার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে এবং ১ কোটি ৭২ লাখ ভিউ অর্জন করে।
এরপর ২৬ জানুয়ারি নেটফ্লিক্স জানায়, সিনেমাটি ৪ কোটি ৫ লাখ ভিউ পেয়েছে। একই সময়ে এটি বৈশ্বিক সেরা ১০ ইংরেজি সিনেমার তালিকায় এক নম্বর অবস্থান ধরে রাখে।
তবে সাফল্য সেখানেই থেমে থাকেনি। নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের ‘হোয়াট উই ওয়াচড’ প্রতিবেদনে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’-এর মোট ভিউ ৭ কোটি ৭৭ লাখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ মুক্তির প্রথম দিকের ৪ কোটি ৫ লাখ ভিউয়ের পরও পরবর্তী মাস গুলোতে সিনেমাটি উল্লেখ যোগ্য দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গল্পের সঙ্গে মিশে আছে ভ্রমণ
‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’-এর অন্যতম আকর্ষণ এর ভ্রমণ নির্ভর গল্প। পপি ও অ্যালেক্সের বন্ধুত্বের বড় একটি অংশ গড়ে উঠেছে একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ছুটি কাটানোর মধ্য দিয়ে। ফলে ভ্রমণ এখানে শুধু গল্পের পটভূমি নয়, বরং দুই চরিত্রের সম্পর্কের পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নেটফ্লিক্স সিনেমাটিকে ‘বিশ্বভ্রমণ নির্ভর রোমান্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রেমের গল্পের সঙ্গে বিভিন্ন গন্তব্যের আবহ যুক্ত হওয়ায় সিনেমাটিতে রোমান্সের পাশাপাশি ভ্রমণের আকর্ষণও তৈরি হয়েছে।
বইয়ের জনপ্রিয়তা ছিল বাড়তি শক্তি
সিনেমাটির সাফল্যের পেছনে মূল উপন্যাসটির জনপ্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে প্রকাশের পর ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পায়। ফলে সিনেমাটি মুক্তির আগেই গল্পটির সঙ্গে পরিচিত একটি বড় পাঠকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল।
এটি এমিলি হেনরির কোনো উপন্যাসের প্রথম চলচ্চিত্র অভিযোজন হওয়ায় তাঁর পাঠকদের মধ্যেও সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে অভিযোজনের সঙ্গে হেনরির সম্পৃক্ততা বইটির ভক্তদের জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
এমিলি হেনরির গল্প এবার এমির মঞ্চে
দর্শক প্রিয়তার পাশাপাশি ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ পেয়েছে পুরস্কারের স্বীকৃতিও। ২০২৬ সালের এমি অ্যাওয়ার্ডে সিনেমাটি সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এই মনোনয়নে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন এমিলি হেনরি। তাঁর সঙ্গে লরা কুইকসিলভার ও টেড গিডলোও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন উইক গডফ্রে, মার্টি বোয়েন ও আইজ্যাক ক্লসনার।
এমিলি হেনরির জন্য বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে উপন্যাস দিয়ে তাঁর পাঠক প্রিয়তা তৈরি, সেটিই যখন প্রথম বারের মতো সিনেমায় রূপ নেয় এবং সেই সিনেমা দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি এমি মনোনয়ন পায়, তখন লেখক হিসেবে তাঁর সৃষ্টির পরিসরও আরও বড় হয়ে ওঠে।
কেন দর্শকের এত পছন্দ?
সিনেমাটির সাফল্য বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমত, জনপ্রিয় একটি রোমান্টিক উপন্যাসের প্রস্তুত পাঠক গোষ্ঠী সিনেমাটির প্রতি শুরু থেকেই আগ্রহ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, গল্পটি শুধু প্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, ব্যক্তিত্বের পার্থক্য, ভ্রমণ ও সম্পর্কের পরিবর্তনকে একসঙ্গে তুলে ধরেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শকভিত্তি। প্রথম সপ্তাহের ১ কোটি ৭২ লাখ ভিউ থেকে কয়েক সপ্তাহে ৪ কোটি ৫ লাখ এবং পরে ছয় মাসে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ভিউয়ে পৌঁছানো দেখায়, সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ শুধু মুক্তির সময়ের কৌতূহলে সীমাবদ্ধ ছিল না।
সব মিলিয়ে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ জনপ্রিয় রোমান্টিক গল্পের একটি সফল পর্দা-রূপান্তর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ভ্রমণের আবহ, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও প্রেমের টানা পোড়েন যেমন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে, তেমনি এমি মনোনয়ন সিনেমাটিকে দিয়েছে আলাদা স্বীকৃতি। আর এই যাত্রায় গল্পটির স্রষ্টা এমিলি হেনরিও পেয়েছেন প্রযোজক হিসেবে পুরস্কারের মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ।
সূত্র: নেটফ্লিক্স









