দীর্ঘ অপেক্ষা, নাম পরিবর্তন, নতুন করে শুটিং আর নানা সরকারি জটিলতার পর অবশেষে মুক্তির পথে সালমান খানের যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’। সিনেমাটির সংশোধিত সংস্করণকে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অনাপত্তি সনদ বা এনওসি দিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের ছাড়পত্রের।
সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ১৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে সিনেমাটি। তবে এই তারিখ এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সালমানের এই সিনেমার গল্পের সূত্র ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার ভারত-চীন সংঘাত। সেই ঘটনা ঘিরেই প্রথমে সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’। পরে নাম বদলে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’।
কেন এত দেরি?
সিনেমাটির বিষয়বস্তু শুরু থেকেই সংবেদনশীল ছিল। ভারত-চীন সম্পর্ক এবং গালওয়ান সংঘাতের মতো বাস্তব ঘটনা নিয়ে নির্মিত হওয়ায় সিনেমাটির কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের পর সিনেমাটির গল্প ও কয়েকটি দৃশ্যে পরিবর্তন আনা হয়। কিছু অংশ নতুন করে ধারণও করা হয়। পরে ভারত-চীন সম্পর্ককে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে সংশোধিত সংস্করণটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
এরপরই আসে কাঙ্ক্ষিত এনওসি। তবে এখানেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ নয়। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের সনদ প্রয়োজন। তাই ১৩ নভেম্বরের সম্ভাব্য মুক্তির তারিখটি এখনো নিশ্চিত নয়।

‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ থেকে ‘মাতৃভূমি’
সিনেমাটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নামে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই নামেই এর প্রথম ঝলক প্রকাশ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তির পরিকল্পনা ছিল।


কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তি পিছিয়ে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম বদলে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ রাখা হয়। নতুন নামের সঙ্গে যুক্ত করা হয় যুদ্ধের অবসান ও শান্তির বার্তা ‘মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সিনেমাটির গল্পেও পরিবর্তন আনা হয়। ফলে আগের মুক্তির পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সিনেমায় সালমানের চরিত্র কী?
সিনেমার প্রধান চরিত্রে রয়েছেন সালমান খান। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর চরিত্রকে কর্নেল বি. সন্তোষ বাবুর সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষে কর্নেল সন্তোষ বাবু ১৬ বিহার রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
সালমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন চিত্রাঙ্গদা সিং। এছাড়া অঙ্কুর ভাটিয়া, টেনজিন বোদ, অভিলাষ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত আছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অপূর্ব লাখিয়া। চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত আছেন চিন্তন গান্ধী। গল্পের সূত্র হিসেবে শিব অরুর ও সুরেশ নায়ারের নামও রয়েছে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন সালমা খান। সিনেমাটির সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত আছেন হিমেশ রেশমিয়া।
কী দেখাবে ‘মাতৃভূমি’?
২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সীমান্তে মুখোমুখি সেই সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন সদস্য নিহত হন। ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সেই বাস্তব ঘটনার পটভূমিতেই তৈরি হয়েছে ‘মাতৃভূমি’। তবে নির্মাতারা শুধু যুদ্ধের দৃশ্য নয়, সৈনিকদের দায়িত্ব, আত্মত্যাগ, পরিবার এবং যুদ্ধের মানবিক দিকও গল্পে তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে আগের প্রচারণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
সিনেমাটির প্রথম ঝলকেও দেখা গেছে কঠিন পাহাড়ি পরিবেশে সেনাদের লড়াইয়ের প্রস্তুতি। নির্মাতাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গল্পের ঘটনাগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতার দুর্গম পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সব মিলিয়ে ‘মাতৃভূমি’র যাত্রা এখন নতুন মোড়ে। ২০২৫ সালে ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নামে শুরু হওয়া সিনেমাটি নাম বদলে হয়েছে ‘মাতৃভূমি’। মুক্তির তারিখ বদলেছে, গল্পের কিছু অংশও বদলেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার মিলেছে সরকারের এনওসি। এখন বাকি শুধু চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের ছাড়পত্র। সেটি মিললে ১৩ নভেম্বর ২০২৬ সালমান খানকে আবার বড় পর্দায় দেখা যেতে পারে এই যুদ্ধভিত্তিক সিনেমায়।









